সশস্ত্র বাহিনী ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হবে না: শেখ হাসিনা

pm-senakunja-2সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীকে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে ব্যবহার না করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাধিকবারে সেনা শাসনে পড়া বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রধান সোমবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় একথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা (আওয়ামী লীগ) গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সশস্ত্র বাহিনীকে আমরা কখনও ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করিনি বা ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে..বারবার ক্যু করে সশস্ত্র বাহিনীর শত শত অফিসার বা সৈনিকের হত্যাকান্ড আমরা ঘটাইনি।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর সাত মাস পর চলাকালে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী সমন্বিত বাহিনী গড়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে। স্বাধীনতার পর থেকে দিনটি সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
দিবসের কর্মসূচির শুরুতে সোমবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বিকালে সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সাবেক রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও ছিলেন।
সশস্ত্র দিবসের এবারের অনুষ্ঠানেও যাননি বিএনপি চেয়ারপসন খালেদা জিয়া। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুষ্ঠানে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।
গত চার বছর ধরে অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, “শারীরিক অসুস্থতার জন্য সেনাবাহিনীর এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উনি উপস্থিত থাকতে পারেননি।”

বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী সেনাকুঞ্জে যাওয়া আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, নৌ পরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, মসিউর রহমান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান, সাম্যবাদী দলের (এমএল) সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কূটনীতিকরা ছিলেন অনুষ্ঠানে।
প্রধানমন্ত্রী সেনাকুঞ্জে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান তিন বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ ও এয়ার মার্শাল আবু এসরার। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকও উপস্থিত ছিলেন।
বিউগলে সুরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান মঞ্চে গিয়ে দাঁড়ানোর পর জাতীয় সংগীত বেজে ওঠে। জাতীয় সঙ্গীত শেষে বক্তব্য রাখেন তিনি।
শেখ হাসিনা বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান স্মরণ করে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর খ্যাতি অর্জনে সরকারের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
“আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যেন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সেজন্য আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন একটি সশস্ত্র বাহিনী, আধুনিক সমরাস্ত্রে সুসজ্জিত পারদর্শী সশস্ত্র বাহিনী হিসাবে গড়ে তুলতে চাই।”
সেনাবাহিনী আধুনিকায়নের সঙ্গে বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তনের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
‘অতি শিগগিরই’ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পটুয়াখালীর লেবুখালীতে একটি পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা লাভ করতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

সিলেটে পদাতিক ডিভিশন ও নয়টি ইউনিট আগামী ২৩ ডিসেম্বর উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিগেড পর্যায়ে স্পেশাল ফোর্স গঠনের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।”
নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে দুটি সাবমেরিন সংযোজনের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা, যা চীন থেকে অচিরেই আসছে।
নৌবাহিনীকে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নৌবাহিনী যেন আকাশেও চলতে পারে, সাগরেও চলতে পারে এবং সাগরের তলদেশেও চলতে পারে, সেই সুরক্ষা আমরা করে দিয়েছি।”
সাম্প্রতিককালে বিমান বাহিনীতে এফ-৭ বিজি যুদ্ধবিমানসহ হেলিকপ্টার ও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, সশস্ত্র বাহিনী সদস্যদের আবাসন সমস্যা দূরীকরণে ইতোমধ্যে অফিসার, জেসিও ও অন্যান্য পদবির সৈনিকদের জন্য বাসস্থান, মেস ও ব্যারাক নির্মাণ করা হয়েছে।”
জাতিসংঘ শান্তি মিশনে কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করেন সরকার প্রধান।
“মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সশস্ত্র বাহিনী আমাদের জাতির অহংকার। আপনারা যেন শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতায় সর্বত্র প্রশংসিত হতে পারেন, দেশের প্রতিরক্ষায় এবং দেশ গড়ার কাজে অবদান রেখে আপনাদের গৌরব সমুন্নত রাখতে পারবেন- এই বিশ্বাস আমার আছে,” বলেন তিনি।
বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী ঘুরে ঘুরে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

শেয়ার