তালায় খেজুর গাছ কাটাতে ব্যস্থ গাছিরা ক’দিন পরই মিলবে শীতের রস

মুজিবর রহমান, পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি॥ মনে করিয়ে দেয় সেই আঞ্চলিক গান  খিলে ধুয়ে দে বৌ গাছ কাটতে যাব, খেজুর গাছে চুমরি বারুইছে তোরে আনে দেব । শীতের শুরুতে তালা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল জুড়ে খেজুর গাছ উঠানোর কাজে অতি ব্যস্থতায় সময় অতিবাহিত করছেন গাছিরা। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শীতের আগমনীর মধ্যে দিয়ে গাছিরা তাদের পুরো বছরের প্রতীক্ষিত সেই গাছ উঠনো ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন। অবিরাম তারা ছুটে চলেছেন এমাঠ হতে ও মাঠ, নদীর চর, ক্ষেতের আইল আবার রাস্তার ধারে দন্ডায়মান থাকা খেজুরগাছগুলো ভালোভাবে পরিস্কার পূর্বক রস বের করার কাজে। ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় ধরে গাছিরা তাদের রস বের করার কাজে ব্যস্ত থাকেন। একাজে শুধুমাত্র গাছিরই ব্যস্ততা বাড়ে না, ব্যস্ততা বেড়ে যায় গাছ মালিকেরও। কোথায় রসের পাত্র (ভাড়), সেগুলো পরিষ্কার করে ধুয়ে দেয়া। অতপর পাত্রে রাখা রসটি যেন ঘোলাটে না হয় সেজন্য সারিবদ্ধভাবে উঠানে রেখে তাতে আগুন দিয়ে ভালোভাবে জ্বালানো। তারপর সেগুলো গাছে পেতে রাখার জন্য মাঠে কিংবা যথাস্থানে পৌছে দেয়া।
তালার ঘোনা গ্রামের গাছি খায়রুল আলম জানালেন, এবছর গাছের সংখ্যা খুবই সীমিত। গাছ প্রতি ১’শ ২০ টাকা করে নিচ্ছি। তবে একেবারে ছোটো চারার জন্য ১’শ টাকার নিচে রাখা যাবে না।
একথা বলতেই যেন বাল্যকালের কথা মনে করিয়ে দিল গাছি। দেখা যেত মাঠের পর মাঠ নদীর চরে অসংখ্য খেজুর গাছ। গাছের বুকে পাত্র পেতে রাখলে পাটখড়ি দিয়ে চুরি করে মাঠ থেকে রস খাওয়ার মজাটাই যেন অন্যরকম। অতি ভোর বেলা নিজেদের গাছ থেকে রসের পাত্র এনে কনকনে শীতে গ্লাস ভর্তি রসের স্বাদ তৃপ্তিদায়ক। পরে পরিবারের সবাই রস খেয়ে ব্যারেলে অথবা কড়াইতে করে বাকি রস জ্বালানো হতো। তা থেকে গুড়ে পরিণত করে খেজুরের পাটালি বানানো হতো। সারাবাড়ি রসের ও পাটালির মৌ মৌ গন্ধ পাওয়া যেত। পাত্র (ভাড়) ভর্তি করে রাখা গুড় একসময় মিশ্রি (দানা) পড়ে যেত। সকাল বেলা নারকেল  আর দানা মিশ্রিত গুড় দিয়ে পানতা ভাত, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যই বহন করত।

শেয়ার