অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ইন্টারনেটে ॥ কালিগঞ্জে শিক্ষক-শিক্ষিকার পরকীয়া, সাময়িক বরখাস্ত

ontoronggo muhurto
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা॥ কালিগঞ্জ উপজেলার বরেয়া মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক-শিক্ষিকার পরকীয়া সম্পর্ক এবং শেষ পর্যন্ত তাদের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের কিছু ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার সকালে ম্যানেজিং কমিটি বৈঠক করে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেছে। স্কুলের সভাপতি সফিকুজ্জামান সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান।
খোঁজ নিতে সরেজমিনে গেলে কথা হয় তেঁতুলিয়া গ্রামের আব্দুল কাদের, সাইদুল ইসলাম, মফিজুর রহমান, তমল কর্মকার, শিক্ষক হাসানুজ্জামান, বরেয়া গ্রামের সুশান্ত বর্মন ও আব্দুল আজিজসহ একাধিক অভিভাবকের সাথে। তারা জানান, স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক এক সন্তানের জনক আশরাফুল কবিরের সাথে সমাজ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা দুই সন্তানের জননী আছিয়া খাতুনের দীর্ঘদিন পরকিয়া প্রেম চলে আসছিল। আছিয়া খাতুনের স্বামী তারালী আলাউদ্দীন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জামায়াত নেতা আরিফ বিল্লাহ একাধিক সহিংস মামলার পলাতক আসামি। এই সুযোগে শিক্ষক আশরাফুল কবির আছিয়ার সাথে ঘনিস্ট সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের গোপনে বিভিন্ন জায়গায় চলাফেরা ও মিলিত হওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন মানুষের নজরে আসে। যা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে আছিয়ার স্বামী বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এদিকে বিষয়টি জানাজানির পর আছিয়া খাতুন সরে আসার চেষ্টা করেন কিন্তু শিক্ষক আশরাফুল তার পিছু ছাড়েনি। নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে লম্পট আশরাফুল কবির তার মোবাইল ফোনে ধারণকৃত আপত্তিকর ছবি ফেইসবুকের মাধ্যমে ইন্টারনেটে পোস্ট করেন। যা বিভিন্ন মোবাইলের দোকানেও ছড়িয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় ম্যানেজিং কমিটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর বৈঠক করে তাদের দু’জনকেই সাময়িক বরখাস্ত করেছে। বর্তমানে ইন্টারনেটে এবং বিভিন্ন মোবাইলের দোকানে এই দুই শিক্ষক-শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি পাওয়া যাচ্ছে। বিষযটি টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে। ঘটনার সত্যতা জানতে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সফিকুজ্জামান খোকনের সাথে তার ব্যক্তিগত সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৭ সদস্যের গঠিত টিম তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে বরেয়া মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হীরালাল সরকারের সাথে তার ব্যক্তিগত সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান। তবে অভিযুক্ত প্রেমিক শিক্ষক আশরাফুল কবির ও প্রেমিকা শিক্ষিকা আছিয়া খাতুনের ব্যক্তগত সেলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে বরখাস্তকৃত শিক্ষিকা আছিয়ার স্বামী অধ্যক্ষ আরিফ বিল্লাহ সেলফোনে জানান, আমি সহিংস মামলায় পলাতক থাকা অবস্থায় আমার স্ত্রী আমার বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। এর বেশি আমি আর কিছু বলতে চাই না।
তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। একই সময়ে তিনি আরও বলেন, ঘটনা যদি সত্যি হলে অভিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার