শার্শা নাভারন কলেজের এইচএসসি কেন্দ্র দুই নেতার মেয়ে পরীক্ষা দেয়ায় ‘একটু সুবিধা’ বেশি

navaron
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারন ডিগ্রি কলেজ। ঐহিত্যবাহী এই কলেজে চলছে প্রতিবারের মতো এইচএসসি পরীক্ষা। বিধি অনুযায়ী দেশের সব পরীক্ষা কেন্দ্রের মতো এই কেন্দ্রেও প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা হবে এটাই প্রত্যাশা করেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। কিন্তু বিশেষ কারণে সেটি যেন হোঁচট খেয়েছে। এখানে নাভারণ কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলের মেয়ে এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেনের মেয়ে পরীক্ষা দেওয়ায় নিয়মটি ‘কাগজের ফাইলে বন্দি’ হয়েছে। চলছে অবাধ নকল। বিশেষ করে ওই দুই নেতার মেয়ে যে রুমে পরীক্ষা দিচ্ছে সেখানে চলছে ইচ্ছেমতো কারবার। কক্ষ পরিদর্শকরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে বাড়ি ফিরছেন। শিক্ষার্থী ও কক্ষ পরিদর্শকদের সূত্র বলছে, ইংরেজি পরীক্ষায় ওই দুই নেতার মেয়ে পেয়েছেন বিশেষ সুবিধা। শিক্ষকরাই তাদের অনিয়মের সুবিধা দিতে বাধ্য হন। অন্য কক্ষের শিক্ষকরা গিয়ে তাদের প্রশ্নের সমাধান করে দিয়েছেন। অথচ সেখানে শিক্ষা বোর্ডের ভিজিলেন্স টিম কিংবা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র দুই নেতার মেয়ের কারণে একটি কেন্দ্রে এমন অবাধ নকল ও অনিয়ম ঘটনায় অভিভাবক মহল ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা এ প্রতিবেদককে খবর লিখতে বলে অন্তত উপরি মহলকে বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করেন। এদিকে, প্রশাসনের এই নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন করে নাভারনের অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ‘উপায় নেই, তাদের হাত-পা বাঁধা।’ এদিকে, প্রথম দিন এক ছাত্রের পরীক্ষা দিতে না দেওয়ার ঘটনা নিয়ে পাশের ফজিলাতুন্নেচ্ছা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষকে বিনা কারণে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বরতদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র সঙ্গে না আনায় তার পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম। তিনি ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে ফজিলাতুন্নেচ্ছা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষকে অব্যাহতি দেন।

শেয়ার