উৎসবের আতশবাজিতে বিস্ফোরণ অগ্নিকা-, নিহত শতাধিক

fil85411e
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভারতের কেরালা রাজ্যে বর্ষবরণ উৎসবের প্রস্তুতির মধ্যে এক মন্দিরে আতশবাজির স্তূপে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকান্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৬ জনে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, রোববার ভোরের আগে বন্দরনগরী কোলামের পারাভুর এলাকায় পুতিঙ্গাল দেবীর ওই মন্দিরে আহত হয়েছেন আরও সাড়ে তিশন মানুষ ।
বাংলাদেশের মতো কেরালার মানুষও আগামী বৃহস্পতিবার বর্ষবরণের উৎসব করবে। মালায়ালাম পঞ্জিকা অনুযায়ী, মেদাম মাসের প্রথম দিন এই উৎসব হয়, যার নাম বিশু।
নতুন পোশাকে সেজে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই উৎসবে অংশ নেন। আর কেরালায় বিশু উৎসবে অন্যতম অনুষঙ্গ হলো আলোকসজ্জা ও আতশবাজির প্রদর্শনী।
বিবিসি জানিয়েছে, বিশুর জন্য পুতিঙ্গাল মন্দিরের কাছেই গাদা করে রাখা হয়েছিল আতশবাজি। সেখানে রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিস্ফোরণ ঘটলে বিস্ফোরণের ধাক্কায় মন্দিরের একটি ভবন ধসে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা রোববার সকাল সাড়ে ৬টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন, শুরু হয় উদ্ধারকাজ। মারাত্মক দগ্ধদের পাঠানো হয় কেরালার রাজধানী থিরুভানানথাপুরামে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পার্বণে যোগ দিতে হাজার হাজার হিন্দু ভক্ত রাতে ওই মন্দিরে জড়ো হয়েছিলেন। বিস্ফোরণে ভবন ধসের কারণেই বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এক কিলোমিটার দূর থেকেও বিস্ফোরণের ধাক্কা টের পাওয়া যায়। ভবন কেঁপে ওঠার সঙ্গে বিকট শব্দে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন অনেকে জ্বলন্ত মন্দির এলাকা থেকে আকাশে উঠে বিস্ফোরিত হতে দেখা যায় হাউই বাজি। জয়শ্রী হরিকৃষ্ণ নামের একজন বলেন, “বিস্ফোরণের পর বাতাসে যেন কংক্রিটের টুকরো উড়ছিল।”
কেরালার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা বলেন, “এ মন্দিরে প্রতিবছরই আতশবাজির উৎসব হয়। আমরা মন্দিরে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
কেরালার বিধান সভা নির্বাচনের আগে আগে এই ঘটনার পর ভোটের প্রচার স্থগিত রেখে ঘটনাস্থলে ছুটে গেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওমেন চ্যান্ডি। হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদীও কেরালায় যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

শেয়ার