যশোর শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা॥ সম্মানীতেই সন্তুষ্ট ভিজিলেন্স টিম, অসম্পূর্ণ তথ্য যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে

jessore education board
দেবু মল্লিক॥
সমন্বয়হীনতার মধ্য দিয়ে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। চলছে শিক্ষকদের সহযোগিতায় নকলের উৎসব! শিক্ষা বোর্ডের গঠিত সাতটি ভিজিলেন্স টিম এবং ১০ জেলা প্রশাসক ও ৪৯ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধিরা কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে সম্মানী নিয়েই সন্তুষ্ট থাকছেন। যদিও দুই এক কেন্দ্রে নকলের সহযোগিতার অভিযোগে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়ম থাকলেও তা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি।
সূত্র মতে, গত ৭ এপ্রিল ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষায় সাতক্ষীরার কলারোয়া বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজে পরীক্ষার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনে সহযোগিতা করার অভিযোগে হল সুপার ওই কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবু তালেবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই অভিযোগে কলারোয়া নির্বাহী অফিসার উত্তম কুমার রায় বুয়ালিয়া মুক্তিযোদ্ধা কলেজের শিক্ষক বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের ১০১ নং কক্ষ পরিদর্শক মুরাদ হোসেনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি স্বীকার করে বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) অসীম কুমার বলেন, ‘বিশেষ কারণে বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবু তালেবকে হল সুপারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে এখন হল সুপারের দায়িত্ব পালন করবেন একই কলেজের সহকারী অধ্যাপক শান্ত কুমার পাল।’
তবে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধক চন্দ্র রুদ্র এ ঘটনার কিছুই জানেন না। তিনি দৈনিক সামাজের কথাকে জানান, সুষ্টুভাবে পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্ব প্রশাসনের। এজন্য বোর্ডের আওতাধীন ১০ জেলা প্রশাসন অফিসে একটি করে ‘কন্ট্রোল রুম’ খোলা হয়েছে। সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য প্রতিদিন পরীক্ষা শেষে তারা মন্ত্রণালয়ে পাঠান। তবে সাতক্ষীরার কলারোয়া বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজে দুইজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়ার তথ্য তার কাছে না আসায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। তিনি আরো জানান, বোর্ড থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ৭ মার্চের চিঠিতে নকলের দায়ে ৩৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন একজন করে হল সুপার ও কক্ষ পরিদর্শক অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেবেন।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এবারের এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ৭ মার্চ কেন্দ্র সচিবদের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেন যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ২১১ সচিব কেন্দ্র পরিচালনায় বোর্ডের গঠিত ভিজিলেন্স টিম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের প্রতিনিধিদের ‘সম্মানী’সহ বিভিন্ন ‘অনৈতিক খরচে’র সুরাহার দাবি করেন। তবে বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মজিদ ‘আমরা এনিয়ে জেলা প্রশাসকদের সাথে কথা বলবো’ বলে এড়িয়ে যান।
সূত্র মতে, নকলমুক্ত, নির্বিঘেœ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সাতটি টিম গঠন করেছে শিক্ষা বোর্ড। এছাড়া ১০ জেলা প্রশাসক ও ৪৯ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধিরা নিয়মিত পরীক্ষা তদারকি করেছেন। অভয়নগর ও মণিরামপুর উপজেলার তিনজন কেন্দ্র সচিব দৈনিক সমাজের কথাকে জানান, পরীক্ষা চলাকালীন বোর্ডে গঠিত ভিজিলেন্স টিম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের প্রতিনিধিরা এসে ‘সম্মানী’ দাবি করছেন। অনেক সময় তারা নির্ধারিত অংক জানিয়ে দিচ্ছেন। যা নিয়ে তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

শেয়ার