যশোরে জমিসহ ভবন নিয়ে বাবু-মতিউরে অপতৎপরতা

ovijog
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে একটি জমিসহ ভবন নিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছে চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার আবদুল হাসিব বাবু-মতিউর রহমান শেখরা। একক মালিকানা দাবি করে বিভিন্ন দফতরে ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানের নামে তারা মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন। মতিউর রহমানের জমির কেয়ারটেকার বাবু জাল জালিয়াতি করে এ জমি তার স্ত্রী ও নিজের নামে দলিল করে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জানাজানি হলে এ জমি ফেরত দিতে বাধ্য হন বাবু। তবে বাবু তখন সুযোগ বুঝে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এখন বাবু পূর্বের প্রতিশোধ নিতে মতিউর রহমানকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভুল বুঝিয়ে এই জমি নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন। বৈধ কাগজপত্র ও আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকার পরও বাবু গং নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগে জানা গেছে, শহরের চাঁচড়ার মতিউর রহমান মুজিব সড়কের ৮ দশমিক ২৫ শতক জমি কেনেন তার স্ত্রী ও নিজের নামে। তিনি ঢাকায় বসবাস করায় এ জমির কেয়ারটেকারের দায়িত্ব দেন আব্দুল হাসিব বাবুকে। তিনি জমির দেখাশুনার দায়িত্ব নিয়ে ল জালিয়াতি করে স্ত্রী ও নিজের নামে ২০০৮ সালে দলিল করে নেন। বিষয়টি জানাজানির পর বাবু ২০১১ সালে এ জমি ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে মতিউর রহমানের স্ত্রী তার ছোট ভাই হাবিবুর রহমানের নামে ৪ দশমিক ১৩ শতক জমি হেবা দলিল করে দেন। উভয়ে সমঝোতায় মতিউর রহমানের নামের বাকি ৪ দশমিক ১২ শতক জমি হাবিবুর রহমানের নামে পাওয়ার অব অ্যার্টনি দিয়ে ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। মতিউর রহমানের জমির পাওয়ার অব অ্যার্টনি পেয়ে হাবিবুর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তবে এর আগে ভবন নির্মাণে হাবিবুর রহমানের নিজের টাকায় কাজ শুরু হয়। কয়েক বছর আগে বহুতল ফাউন্ডেশনের দ্বিতল ভবনের কাজ শেষ হয়। নির্মাণ চলাকালীন বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে তিনি কয়েক লাখ টাকাও ধার হিসেবে নেন। এটাকা তিনি পরিশোধ করেননি। পরবর্তীতে ভবন নির্মানের খরচ ও পাওনা টাকা নিয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয় মতিউর রহমানের সাথে। তখন বাবুর কু পরামর্শে মতিউর ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করে তার স্ত্রীর নামে হেবা দলিল করে দেন।
এ সুযোগ কাজে লাগায় বাবু। তিনি মতিউর রহমানকে ভুল তথ্য দিয়ে সম্পত্তির পুুরোটায় দখলের ষড়যন্ত্র শুরু করেন। বাবু রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দলিল বাতিলের চেষ্টা ও টিপ সই নষ্ট করার অপচেষ্টা চালায়। এঘটনায় হাবিবুর রহমান থানায় একটি জিডি করেন। এদিকে, ব্যাংকের টাকা পরিশোধের আগেই মতিউর রহমান তার স্ত্রীর নামে হেবা দলিল করে দেয়ায় বিষয়টি আইন সম্মত নয় বলে জানিয়েছেন এক আইনজীবী। এঘটনায় মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তÍুতি চলছে।
ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, জমি দুইজনের। এ ব্যাপারে মতবিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। যা এখনো বিচারাধীন আছে। তিনি যাতে হয়রানির শিকার না হন সে ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

শেয়ার