মনিরামপুরে কালবৈশাখীর ছোবলে ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত ॥ আহত ১৫ ॥ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় অন্ধকারে অনেক এলাকা

jhor
মোতাহার হোসেন, মনিরামপুর॥ মনিরামপুরে কাল বৈশাখীর ছোবলে লন্ড-ভন্ড হয়ে গেছে পৌর শহরসহ উপজেলার অন্তত: শতাধিক গ্রাম। এতে প্রায় ৯ শতাধিক ঘরবাড়ি এবং ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত ও প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরিবোরো পাকা ধান, পেপে, লিচু, কলা গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাল বৈশাখীর তান্ডব নৃত্যে পল্লী বিদুতের ১২০টি খুঁটি ভেঙ্গে ও ১০০টি ট্রান্সফরমার সম্পূর্ন বিধ্বস্ত হয়ে গত ৩দিন যাবত উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া গাছ চাপা পড়ে অন্তত: ১৫ জনের আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য, উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্থ এরাকাসমূহ পরিদর্শন করেন।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিট থেকে ৭ টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত ২৮ মিনিটের কাল বৈশাখীর ছোবলে পৌর শহরসহ উপজেলার খেদাপাড়া, মশ্বিমনগর, ঝাঁপা, চালুয়াহাটি, শ্যামকুড়, খানপুর, দূর্বাডাঙ্গা, নেহালপুর, মনোহরপুর, কুলটিয়া, হরিদাসকাটি, ভোজগাতী, কাশিমনগরসহ অধিকাংশ ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রামের নয় শতাধিক কাঁচা ও অর্ধপাকা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে লন্ডভন্ড হয়। ক্ষতিগ্রস্থ হয় পৌরশহরের দূর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দক্ষিন মাছনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধলিগাতী-সুন্দলপুর আলিম মাদ্রাসাসহ ২০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় দেড় হাজার হেক্টরের পাকা ইরিবোরো ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল। বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, খেদাপাড়া ইউনিয়নের খড়িঞ্চী গ্রামের রনি হোসেনের কাঁচা ঘরটি সম্পুর্ন বিধ্বস্ত হওয়ায় তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে গাছতলায় ঠাঁই নিয়েছে। চাঁদপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের একমাত্র বসত ঘরটি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। এরকম দৃশ্য শুধু রনি হোসেন এবং আবদুল মান্নানের নয়। এরকম ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে চাঁদপুর গ্রামের হোসেন আলী, জাকির হোসেন, রবিউল ইসলাম, আবদুর রাজ্জাক কামালপুর গ্রামের গরিব হোসেন, হানুয়ার গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অনেকে। এদিকে গাছ চাপা পড়ে হেলাঞ্চী গ্রামের জিয়াউর রহমান, গৃহবধু মমতাজ খাতুন, হাজিরা খাতুন, জোছনা খাতুন, ফতেয়াবাদ গ্রামের সিকদার হোসেন, কামালপুর গ্রামের গরিব হোসেনসহ অন্তত: ১৫ জন আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসার সুশান্ত কুমার তরফদার জানান, কাল বৈশাখীর ঝড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমির ইরিবোরো ধান, ১৪৮ হেক্টর জমির কলা, ৭০ হেক্টর পেপে, ৭৫ হেক্টর আম, ৩০ হেক্টর লিচু ও ৩২০ হেক্টর জমির শাক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। হানুয়ার গ্রামের কৃষক সেলিম মোড়ল জানান, ঝড়ে তার ১২ বিঘা জমির পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অপর কৃষক আতিয়ার রহমান জানান, কালবৈশাখীর ঝড়ে তার যে ক্ষতি হয়েছে তা পুরনীয় নয়। যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার(জিএম) সালাহ উদ্দীন আল-বিতার বলেন, ঝড়ের তান্ডবে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে বিদ্যুৎ লাইনের। তিনি জানান ১২০টি খুঁটি, ১০০টি ট্রান্সফরমার, আড়াই হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। ফলে গত তিনদিন যাবত অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরো জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরো অন্তত: দুইদিন সময় লাগতে পারে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) লুৎফর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সরকারিভাবে ১০ মে:টন চাল, ২০ বান্ডিল ঢেউটিন ও ৬০ হাজার নগদ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে তা এখনও বিতরণ করা শুরু হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, উপজেলা চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান বৃহস্পতিবার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন।

শেয়ার