যশোর বিএনপি নেতা ফেরদৌস হত্যাকাণ্ড॥ ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ আবুল হোসেনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনগণ

hottakando 2
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর বিএনপি নেতা ফেরদৌস হোসেন হত্যার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ আবুল হোসেনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনগণ। ফলে এহত্যার কারণ উদঘাটন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের পথে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় শহরের বড় বাজারের লোহাপট্টি থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি একই এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে এবং ‘ঘাতক’ বিএনপি নেতা ফারুকের ভগ্নিপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অর্ধশত বছর আগে আবুল হোসেন সাতক্ষীরা জেলা থেকে যশোর শহরে আসেন। এরপর লোহাপট্টির ফারুক হোসেনের বোন মমতাজ বেগমকে বিয়ে করেন। মমতাজ বেগমরা ছয় বোন এবং দুই ভাই। আবুল হোসেন বিয়ের পর থেকে ওই বাড়িতেই বসবাস করেন। জেলা বিএনপি নেতা শহরতলীর বিরামপুরে ফেরদৌস হোসেন ওরফে হোসেন এবং আবুল হোসেনের শ্যালক ফারুক দুইজন ঘনিষ্ট বন্ধু। তারা দুই বন্ধু অনৈতিক কর্মকা- চালাতো। এক পর্যায়ে বন্ধুর ভগ্নিপতির বাড়ি থেকেই ফারুকের (বন্ধু) স্ত্রী শিউলি বেগমের সাথে ফেরদৌস পরকীয়া গড়ে তোলে। কিছুদিন আগে শিউলি বেগমের সাথে ফেরদৌস হোসেনের অনৈতিক কর্মকা- হাতেনাতে ধরে ফেলেন আবুল হোসেনের বাড়ির গৃহপরিচারিকা বেদেনা বেগম। এনিয়ে ফারুক হোসেন দীর্ঘ দিনের বন্ধু ফেরদৌাসের উপর ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায় গত ২৩ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দড়াটানা ক্যান্টিনের সামনে ফারুকের সাথে ফেরদৌসের ঝগড়াঝাটির এক পর্যায় হাতাহাতি হয়। এরপর ফারুক হোসেন বাড়িতে এসে আবুল হোসেনের বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া টুটুলের কাছে চাকু চায়। টুটুল চাকু দিতে গড়িমশি করলে আবুল হোসেন তাকে ধমক দেয়। পরে আবুল হোসেনের ভয়ে টুটুল চাকু দেয় ফারুককে। এরপর আবুল হোসেন ধরে রাখে আর ফারুকসহ আরো ২/৩জনে ফেরদৌসকে কুপিয়ে মৃত নিশ্চিত করে। এরপর ফারুকের স্ত্রী শিউলি বেগম, আবুলের স্ত্রী মমতাজ বেগম, তার গৃহপরিচারিকা বেদেনা বেগম এবং ফারুকের শাশুড়ি ফেরদৌসের রক্ত ধুয়ে ফেলে। পাশাপাশি ফারুকের গায়ে থাকা রক্ত ধুয়ে ফেলে। এদিকে, ফেরদৌসের মৃত্যুর বিষয়টি দেখে হতভম্ব হয়ে পড়ে ফারুক। ফলে সে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়। এরই মধ্যে আবুল হোসেন বিষয়টি অন্য দিকে নিতে পুলিশকে অন্য ফারুকের বাড়ি দেখিয়ে দেন। পুলিশ অন্য ফারুকের বাড়িতে গেলে শ্যালক ফারুককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন আবুল হোসেন। আর গৃহপরিচারিকা বেদেনা এবং চাকু দেয়া ভাড়াটিয়া টুটুলকে কয়েকদিন এই এলাকায় আসতে নিষেধ করে আবুল হোসেন।
বুধবার সন্ধ্যায় আবুল হোসেন বাড়ির সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে একটি দোকানের মধ্যে নিয়ে আটক রাখে। এসময় ফেরদৌস হত্যাকা-ের ব্যাপারে আবুল হোসেন পরিকল্পনা করেছেন এবং ফারুককে টাকা দিয়ে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন বলে এলাকাবাসীর কাছে স্বীকার করেন। এদিন তাকে নিয়ে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই তপন কুমার বিশ্বাস।

শেয়ার