‘ফাঁস’ নয় তথ্য ‘হ্যাক’ হয়েছে, দাবি মোস্যাক ফনসেকার

Massock
সমাজের কথা ডেস্ক॥ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক কোটি পনের লাখ গোপন নথি ‘ফাঁস’ নয় বাইরে থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ল’ ফার্ম মোস্যাক ফনসেকা।
মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পানামাভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটির অংশীদার ও প্রতিষ্ঠাতা র‌্যামন ফনসেকা বলেন, “আমাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বৈধ। আমরা কোনো গোপন কাজ করি না। এটা ফাঁস নয়, হ্যাক।”
এ ঘটনায় এরই মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান ৬৩ বছর বয়সী র‌্যামন।
“আমরা এরই মধ্যে এ ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি, সরকারি একটি সংস্থাও এটি নিয়ে কাজ শুরু করেছে।”
কোম্পানির যেসব ইমেইল ও তথ্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস ও অন্যান্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সেগুলোকে ‘প্রসঙ্গের বাইরে’ ও ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও দাবি তার। “আমাদের মতবাদ আছে এবং আমরা সেই অনুযায়ী চলি”, বলেন তিনি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের কাছে থাকা কোনো তথ্য নষ্ট করা হয়নি এবং প্রতিষ্ঠানটি কাউকে কর ফাঁকি বা মুদ্রা পাচারে সহায়তা করেনি বলেও দাবি ল’ ফার্মটির এ শীর্ষ কর্মকর্তার।
চলতি সপ্তাহে গণমাধ্যমে আসা মোস্যাক ফনসেকার এসব নথি কেবল রাজনীতিবিদ নয়, ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী, বিশ্বখ্যাত ফুটবলার, বলিউড তারকাসহ অনেকেরই গোমর ফাঁস হয়ে গেছে।
ধনী আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কোন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন- সে তথ্য বেরিয়ে এসেছে এসব নথিতে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে এ ঘটনায় নাম আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পদত্যাগ করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ড গুনলাগসন।

এ ঘটনাকে ‘ডাইনি-নিধন’ হিসেবে অভিহিত করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো এই ‘ফাঁস’ থেকে সুবিধা নিতে পারবে বলেও আশঙ্কা করছেন র‌্যামন।

শেয়ার