কালীগঞ্জ মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরে ঝড়ে বাড়িঘর ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

jhorm
নিজস্ব প্রতিবেদক, কালীগঞ্জ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরসহ আশপাশের এলাকা ভন্ডভন্ড করে দিয়েছে পৌনে এক ঘন্টার কালবৈশাখী ঝড়। সেই সাথে শিলা বৃষ্টির কারণে গাছের আম ও ক্ষেতের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অগনিত ছোট বড় গাছ ভেঙ্গে ও উপড়ে পড়েছে। ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে টিনের চালা। ভেঙ্গে মাটিতে মিশে গেছে কয়েকশ’ কাচা ও আধাপাকা বাড়ি ঘর। ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকার সবজি, ধান, পাট, আম গাছ, কলা গাছসহ অন্যান্য ফসলের। বড় বড় গাছ রাস্তার উপর উপড়ে পড়ায় প্রায় ১০ ঘন্টা ঢাকা-খুলনা ও কালীগঞ্জ-চুয়াডাঙ্গা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ট্রেন লাইনে গাছ পড়ে কয়েক ঘন্টা বন্ধ থাকে রেল চলাচল। ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইন ছিন্ন বিচ্ছন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৫ ঘন্টা পর কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সমর্থ হয় বিদ্যুৎ বিভাগ। মঙ্গলবার রাতে এ অঞ্চলের জনজীবনে নেমে সিমাহীন দুর্ভোগ। তাৎক্ষনিক সরকারি ভাবে কোন ধরণের ক্ষতিপুরণ দেয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে তালিকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে স্থানীয় সরকার প্রশাসন। তবে খুব দ্রুত সহায়তা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানোয়ার হোসেন মোল্ল্যা জানান, ঝড়ে মহাসড়কের উপর বড় বড় গাছ ভেঙ্গে পড়ায় প্রায় ১০ ঘন্টা ধরে পরিবহনসহ দুরপাল্লার সকল যানবাহন আটকা পড়ে। এতে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কে প্রায় ১২ কিলোমিটার ও কালীগঞ্জ-চুয়াডাঙ্গা সড়কে ৭-৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট হয়। তিনি আরো জানান, রাতেই ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে রাস্তার উপর থেকে গাছ সরিয়ে ট্রেন ও বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর-দুর্গাপুর, নিয়ামতপুর, জামাল, রাখালগাছি, কাষ্টভাঙ্গা, রায়গ্রাম ইউনিয়নে ক্ষতির পরিমান বেশি। এসব এলাকার ক্ষেতের উঠতি ফসল, ধান, পাট, কলাগাছ, আমবাগান, লিচুবাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির বিষয়টি নিরুপনের জন্য তিনি কৃষি বিভাগকে জানিয়েছেন। এছাড়াও যারা ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সাহায্য করা হবে। প্রত্যক্ষদর্শি ও ভুক্তভোগীরা জানান, ঝড়ের তান্ডবে হাজার মানুষ দিকবিদিগ ছুটোছুটি করে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মুহুর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। পুরণো ও কাচা বাড়িঘরের মানুষ নিরাপদে আশ্রয় নেন। বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন অচল হয়ে পড়ে। ঝড় থামার পর স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস রাস্তা ও ট্রেন লাইনের উপর ভেঙ্গে পড়া গাছ সরিয়ে নেয়ার ১৫ ঘন্টা পর সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় প্রায় ৫ ঘন্টা পর। দুপুর ৩টার পর কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে কর্তৃপক্ষ।
কালীগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী যুগলবন্ধু রায় জানান, ঝড়ের পর থেকে তাদের লোকজন বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কাজে নেমে পড়েন। বিরতিহীন ভাবে তাদের জনবল কাজ করছে। তারা কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ দিতে পেরেছেন বলে দাবি করেন। বাকি এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে আনতে কাজ চলছে।

শেয়ার