যশোরে কালবৈশাখী ঝড়, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ॥ভেঙ্গে পড়েছে গাছপাল, ঘরবাড়ি॥ ফসল বিনষ্টের আশঙ্কা

jor
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ মঙ্গলবার সন্ধ্যারাতের শিলাবৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়ায় যশোরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শহরের শংকরপুর এলাকায় অস্থায়ী ঘর ভেঙে নির্মাণাধীন আইটি পার্কের আট শ্রমিকসহ আহত হয়েছেন আন্তত ২০ জন। তাদের মধ্যে ১১ জনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যশোরের জেলা প্রশাসক রাতেই আহতদের দেখতে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এছাড়া প্রচ- ঝড়ে গাছ ও গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে গাছ উপড়ে ও ডাল ভেঙ্গে চৌগাছা সড়কের উপরে পড়ায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। বন্ধ হয়ে যায় অধিকাংশ এলাকার বিদ্যুৎ। অন্যদিকে, বড় বড় শিলায় চলতি বোর ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর পাওয়া গেছে। গ্রামের মাটির ঘর ভেঙ্গে পড়েছে। উড়ে গেছে টিনের চাল।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ ঝড়ে যশোর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে নাজমুল ইসলাম, তসিবুল, তফসির, আব্দুল্লাহ, মালেক, সবুজ, কামরুল ও শরিফুল ইসলাম নামে আটজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তারা শহরের শংকারপুর এলাকায় নির্মাণাধীন আইটি পার্কের কাজ করতেন। গতকাল সন্ধ্যায় ঝড়োহাওয়ার সময় তারা অস্থায়ী ঘরে অবস্থান নেন। এসময় প্রচন্ড ঝড়ে ঘরটি ভেঙে গেলে তারা আহত হন। এছাড়া উপশহর এলাকার রনি, চাঁচড়ার আমেনা ও পালবাড়ি এলাকার আব্দুর রহমান নামে আরো তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর রাত সাড়ে ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আরো ৯ জন হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে রাতেই হাসপাতল পরিদর্শনে যান যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর।
যশোর সদর উপজেলার ফুলতলা গ্রামের শুকুর আলী বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে হঠাৎ ঝড়োহাওয়া শুরু হয়। ঝড়ে এলাকার বড় বড় গাছসহ আধাপাকা বাড়ি ঘর ভেঙে গেছে। একই সাথে প্রচ- শিলাবৃষ্টির কারণে চলতি বোরধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার ঘরের টিন উড়ে গেছে। উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের আলতাফ হোসেন বলেন, ঝড়ে গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের উপর পড়েছে। এজন্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভুতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যশোর শহরে বিদ্যুৎ ছিলো না। তবে রাতে মাঠে যেতে না পারায় বোরধানের ক্ষতির পরিমান বলতে না পারলেও তা ব্যাপক বলে জানান তিনি।
জানা যায়, প্রচ- ঝড়ে যশোর শহরের বিভিন্ন দোকানের সাইনবোর্ড, রাজনৈতিক নেতাদের তোরণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙে পড়ে। এতে শহরে কোন কোন সড়কে রিকসা, ইজিবাইক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শহরের কোন কোন এলাকায় বৈদ্যুতিক তার ও মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের একাধিক স্থানে গাছ ভেঙে পড়ায় যানচলাচল রাতে বন্ধ হয়ে যায়। একই অবস্থা যশোর চৌগাছা সড়কের। সড়কটির আন্দলপুর আমবটতলা এলাকায় একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ে।
এদিকে, ঝড়ে যশোর-খুলনা মহাসড়কের বেঙ্গল জুটমিলের সামনে একটি বড় গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের মালঞ্চিতেও একটি গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। এ কারণে এ দুই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা জানিয়েছেন, এই ঝড়ে বোরো ক্ষেতের ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শেয়ার