পুলিশের জমি দখলের প্রতিবাদ করার জের॥ যশোরে মানবাধিকার সংগঠককে পাচারকারী বলে থানায় পোস্টার টাঙিয়েছে পুলিশ

lal
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ শীর্ষ সন্ত্রাসী বা অপরাধীদের ছবি থানার দেয়ালে না থাকলেও যশোরের বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক নামে এক মানবাধিকার সংগঠককে আদম পাচারকারী ও প্রতারক অ্যাখ্যা দিয়ে তার ছবি নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার তার ছবি এসপি অফিস ও কোতোয়ালি থানার নোটিশ বোর্ডে লাগানো হয়েছে। শহরের গাড়িখানা রোডে পুলিশের দখলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন এবং উর্ধ্বতন মহলে নালিশ করায় ‘শত্রুতাবশত’ পুলিশ এ কাজ করেছে।
বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক। তার প্রতিষ্ঠান নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা-ে করে দেশে-বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে। মানবপাচার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখায় আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
সূত্র মতে, যশোর শহরের গাড়িখানা রোড এলাকার সরকারি জমি দখল করে সেখান থেকে ৪০টি পরিবার ও ৮/১০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করে পুলিশ। এরপর সেখানে পুলিশ ক্লাবের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দখল করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন ও বিচার চেয়ে নানা পদক্ষেপ নেন মানবাধিকার সংগঠক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সুপার তার বিরুদ্ধে ‘চক্রান্ত’ করতে থাকেন। সর্বশেষ তাকে ‘অপরাধী’ উল্লেখ করে থানার নোটিশ বোর্ডে তার ছবি লাগানো হয়েছে। ছবির নিচে আদম পাচারকারী, চিহ্নিত প্রতারক, অর্থ আত্মসাতকারী, বিএনপি সরকারের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন ও প্রশাসন বিদ্ধেষী উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের অফিসেও একই পোস্টার লাগানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক জানান, ‘পুলিশের জমি দখলের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র। এভাবে কোন মানুষকে উপস্থাপন করতে হলে আদালত থেকে অনুমতি নিতে হয়। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা প্রমাণ করে এসপি একজন মানসিক বিকৃত লোক। তাকে বহিস্কার করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যতদিন তিনি পুলিশে থাকবেন ততদিন তার দ্বারা আইন ধর্ষিত হবে।’ বিষয়টি তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তবে এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টত কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) ভাস্কর সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একে আরিফুল হকের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। পরে আরিফুল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের নামে মামলা রয়েছে। মামলা থাকলেই কি কারও নামে এমন কথা লিখে থানায় টাঙানো যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, আমি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি। এই বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

শেয়ার