যশোরে স্কুলছাত্র আশরাফুল ইসলাম রায়হান হত্যাকাণ্ড॥ ১০ মাসেও খুনের রহস্য উদঘাটন হয়নি, বাদীর উদ্বেগ

hottakando
লাবুয়াল হক রিপন॥
যশোরে শব-ই বরাতের রাতে স্কুলছাত্র আশরাফুল ইসলাম রায়হান হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ১০ মাস পার হলেও কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। সিআইডি পুলিশ বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করলেও তেমন কোন সফলতা দেখাতে পারেনি। এ অবস্থায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।
পুলিশ সূত্র মতে, ২০১৫ সালের ২ জুন রাতে কারবালা মসজিদে শব-ই বরাতের নামাজ আদায় করতে যায় শহরের খালধার রোড বারান্দীপাড়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী গোলাম রব্বানীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম রায়হান। রায়হান একই এলাকার এ-ওয়ান পাবলিক স্কুলে দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো। ঘটনার দিন শব-ই বরাতের নামাজ শেষে দাদা-দাদীর কবর জিয়ারত করার উদ্দেশ্যে সে কারবালা মসজিদে গিয়েছিল। এসময় অমিত ও টিটো নামে তার দুই বন্ধু সাথে ছিল।
নামাজ আদায় শেষে রাত ১২টার দিকে দাদা-দাদীর কবর জিয়ারতের উদ্দেশে কবরস্থানের পুকুর পাড়ে হযরত বোরহান শাহ’র মাজারের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় রায়হান। কিন্তু কয়েকজন অপরিচিত দুর্বৃত্তদের সাথে তাদের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা রায়হানসহ তার বন্ধুদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। রায়হানের চিৎকারে নামাজ আদায় করতে যাওয়া লোকজন তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হান হাসপাতালে মারা যায়। অপর দু’জনের মধ্যে অমিতের অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে ঢাকায় নেয়া হয়। আর টিটোকে যশোরেই চিকিৎসা করানো হয়।
এঘটনার দুইদিন পর রায়হানের পিতা মাছ ব্যবসায়ী গোলাম রব্বানী বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন, শহরের খড়কি কারবালা এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান, সার্কিট হাউজ পাড়ার আক্তারুজ্জামান ডিকু, একই এলাকার আল আমীন, কাইল্যে মুকুল ও পুন্টা।
এহত্যাকাণ্ডের একদিন পর মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক আসামিকে আটক করে এসআই জামাল উদ্দিন ও এসআই বিধান কুমার বিশ্বাস। ওই দুই দারোগা আটক মোস্তাফিজুর রহমানকে থানার মধ্যে মারপিট করে কয়েকজন নিরীহ লোকজনের নামে আদালতে জবানবন্দি দিতে বলেন। এছাড়া তাকে মারপিটের সময় ভিডিও ধারণ করে হুমকি দেয়। কিন্তু সে আদালতে জবানবন্দি দেয়নি।
সূত্রে আরো জানা গেছে, রায়হার হত্যা মামলাটি তদন্তে থানা পুলিশের ব্যর্থতার কারণে সঠিক তদন্তের জন্য গত বছরের ২৪ আগস্ট সিআইডি পুলিশের উপর ন্যস্ত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর যশোর সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর তদন্তের দায়িত্ব পান। কিন্তু ৭ মাসেও এ মামলার তদন্তে তেমন কোন সফলতা আসেনি। এ পর্যন্ত কোন আসামি আটক বা হত্যার কারণ উদঘাটন করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। এ অবস্থায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। নিহতের পিতা গোলাম রব্বানী জানান, গত ১০ মাসেও এ হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন এবং অপরাধীদের আটক করতে না পারায় তারা উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় আছেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর বলেন, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আসামি আটকেরও চেষ্টা চলছে।

শেয়ার