প্রচলিত আইনেই তনু হত্যার বিচার হবে : প্রধানমন্ত্রী

fil1111e
সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তনু হত্যার বিচার প্রচলিত আইনেই সম্ভব। এ হত্যাকান্ডের বিচার প্রচলিত আইনেই করা হবে। সোমবার (০৪ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য নিয়ে কথা উঠলে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘প্রচলিত ফৌজদারি আইনে তনু হত্যার বিচার সম্ভব নয়’। মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতির এ বক্তব্যের প্রসঙ্গটি আলোচনায় উঠলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি কীভাবে এটা বলেছেন জানি না। তবে প্রচলিত আইনেই এই বিচার সম্ভব। সেটাই আমরা করবো’।
বৈঠকে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিচারের জন্য নতুন কোনো আইনের প্রয়োজন নেই। আমাদের দ্রুত বিচার আইন আছে, নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইন আছে। এসব বিদ্যমান আইনেই তনু হত্যার বিচার করা হবে।
শনিবার (০২ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘তনু হত্যার ঘটনা একটি আধুনিক অপরাধ। পুরনো ফৌজদারি আইন দিয়ে এর সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার সম্ভব নয়। এ ঘটনার তদন্ত করতে হবে নতুন ডিজিটালাইজইড পন্থায়। যতোই আমরা মিছিল করি না কেন, পুরনো আইন দিয়ে তা সম্ভব না’।
তিনি আরও বলেছিলেন, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে প্রচলিত ফৌজদারি আইনের মিল নেই। একে ঢেলে সাজাতে হবে। ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি আইন দিয়ে তনু হত্যার বিচার করা যাবে না।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতির এ বক্তব্যের প্রসঙ্গটি বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় উঠলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুসহ কয়েকজন মন্ত্রী আলোচনায় অংশ নেন। এ সময় সংসদ সদস্যদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির দেওয়া বক্তব্য ও দুই মন্ত্রীকে আদালতের জরিমানা রায়ের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
সূত্রগুলো জানায়, তনু হত্যার বিচার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, বিদ্যমান আইনেই এই হত্যাকান্ডের বিচার করা সম্ভব। নতুন আইনের প্রয়োজন নেই। ভারতে ট্রেনের মধ্যে নারী ধর্ষণ হলে দ্রুত বিচার আইন করে তার বিচার করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে দ্রুত বিচার আইন আরও আগে থেকেই করা হয়েছে। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রচলিত আইনেই এ হত্যাকান্ডের বিচার করা হবে বলে জানান।
সূত্র আরও জানায়, এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্য ও সংসদে আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য সম্পর্কে বলেন, সংসদে আইন পাস করার আগে অনেক প্রক্রিয়া পার করতে হয় এটা তো তার(প্রধান বিচারপতি) জানা আছে নিশ্চয়ই। মন্ত্রণালয় আইনের খসড়া তৈরি করে। সেটা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং হয়। এরপর মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের পর সংসদে যায়। তার পর সংসদীয় কমিটিতে যায়। এর পর সেটা পাস হয়। তিনি (প্রধান বিচারপতি) কেন এটা বলেছেন জানি না।
সূত্র জানায়, দুই মন্ত্রীকে করা আদালতে জরিমানার দন্ড নিয়ে কথা উঠলে বিচারপতিরা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়েছেন বলে মন্ত্রীদের কেউ কেউ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের কার কি দায়িত্ব, সেটা সংবিধানে বলা আছে। তাই প্রত্যেকেরই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করা উচিত। কারো ওপর কারো প্রভাব দেখানো উচিত না।

তনুর প্রথম ময়নাতদন্তে ধর্ষণের ‘আলামত নেই’ // লিডের পেটে যাবে
সমাজের কথা ডেস্ক॥ কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর প্রথম ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। কুমিল্লা সেনানিবাসে এই হত্যাকান্ডের ১৫ দিন পর সোমবার প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক দল। বহুল আলোচিত এই হত্যাকান্ড নিয়ে এর মধ্যে আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত হয়েছে চার দিন আগে। সেই প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি।
তনুর প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ময়নাতদন্তকারী দলের সদস্য ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক শারমিন সুলতানা বিকালে তার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তিনি এখন প্রতিবেদনটি পুলিশে দেবেন।
“ওই প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি,” বলেন কামদা সাহা।
গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মচারী ইয়ার হোসেনের মেয়ে তনুর লাশ পাওয়ার পর ধর্ষণের সন্দেহ পুলিশই প্রথম জানিয়েছিল।
তনুর বাবার করা মামলায় এখনও কোনো খুনিকে শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। থানা পুলিশ ও ডিবির হাত ঘুরে এখন তদন্ত করছে সিআইডি।
তদন্তকারী সিআইডি কর্মকর্তারা এক সেনা কর্মকর্তার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পিয়াল নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে তনুকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এসেছে বলে কুমিল্লা ডিবি পুলিশের ওসি এ কে এম মঞ্জুরুল আলম জানিয়েছেন।
ভিক্টোরিয়া কলেজের এই ছাত্রীর হত্যাকান্ডের পর থেকে প্রতিবাদে সোচ্চার এখন সারাদেশ। সেনানিবাসের এই হত্যাকান্ড ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। তবে সেনা কর্তৃপক্ষ এই হত্যাকান্ড তদন্তে বেসামরিক প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
সেনানিবাসের ভেতরে একটি স্টাফ কোয়ার্টারে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তনু। হত্যাকান্ডের দিন সন্ধ্যায় ৩০০ গজ দূরে আরেকটি স্টাফ কোয়ার্টারে ছাত্র পড়াতে গিয়েছিলেন তিনি।
সেখান থেকে না ফেরার রাতে ইয়ার হোসেন মেয়েকে খুঁজতে বের হন। দুই স্টাফ কোয়ার্টারের মাঝের অনেকটা নির্জন পথের ধারে ঝোঁপের মধ্যে অচেতন অবস্থায় তনুকে পান তিনি। ওই স্থানটি তনুর বাসা থেকে ৯০ গজ দূরে।
ইয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তনুর নাক থেতলানো ছিল, মাথার কিছু চুল ছিল কাটা।
তনুকে কবর দেওয়া হয়েছিল কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুরে পারিবারিক কবরস্থানে। সেখান থেকে লাশ তুলে পুনরায় ময়নাতদন্ত হয়।

শেয়ার