‘মিথ্যা মামলায়’ জামিন নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে শাহীন চাকলাদার॥ নৌকার প্রার্থীদের ঘুষ দিতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত এসপি’র এই মামলা

sahi
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে পুলিশের দায়ের করা ‘মিথ্যা মামলায়’ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। রোববার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করলে বিচারক মো. শাজাহান আলী ৫ হাজার টাকা বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর প্রেসক্লাব যশোরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।
৩১ মার্চ যশোর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের নৌকা প্রতীকের পক্ষে বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে ভুল বুঝিয়ে পুলিশ তার নামে মিথ্যা মামলা করেন। গতকাল তিনি আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। যশোর আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস শহীদ লাল, ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট হুসাইন মোহাম্মদ ইসলাম, যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাচ্চু, সিনিয়র আইনজীবী এনামুল হক, গাজী আব্দুল কাদির, মাহবুব আলম সরকার লাল্টু, জিপি সোহেল শামিম তার পক্ষে আদালতে জামিন চান। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে হাজারো নেতাকর্মী জড়ো হন। পরে জামিন পেয়ে আইনজীবী ও নেতাকর্মীদের নিয়ে শাহীন চাকলাদার প্রেসক্লাব যশোরে এসে তাৎক্ষণিক ব্রিফিং করেন। এ সময় তিনি বলেন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করাতে প্রতি প্রার্থীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে ঘুষ দাবি করেন। পুলিশ সুপারকে ঘুষের টাকা দিতে শাহীন চাকলাদার দ্বিমত পোষণ করেন। এতে শাহীন চাকলাদারের উপর চারমভাবে ক্ষিপ্ত হন পুলিশ সুপার। ক্ষিপ্ত হয়ে এসপি বিভিন্ন লোকের সামনে বলেন ‘এসএসসি পরীক্ষার্থীদের হলে ডিউটি করার মত আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী, সমর্থক এবং ভোটারদের মাথা ঘুরাতে দেয়া হবেনা। কিভাবে তারা ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয় সে বিষয়টি দেখে নেবেন বলে হুমকি দেন। একই সাথে নানা ধরনের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। তারই অংশ হিসেবে নিজের মনগড়া অবস্থায় একটি মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ বা প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেন পুলিশ সুপার।’
পুলিশ সুপারের বানোয়াট তথ্যে বিভ্রান্ত হয়ে নির্বাচন কমিশনের দেয়া পত্রে কোতোয়ালি থানার এসআই মোকাদ্দেস বাদী হয়ে শাহীন চাকলাদারসহ আওয়ামী লীগের তিন নেতার বিরুদ্ধে গত ৩১ মার্চ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করে।
তথ্যগত ভুলে ভরা ওই মামলায় পুলিশ সুপার আরবপুর, দেয়াড়া এবং নরেন্দ্রপুরে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীকে হুমকি দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া আবরপুর ও দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ মনোনীত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম এবং আনিছুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের আলীকে আসামি করা হয়নি। শাহীন চাকলাদার সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে এবং বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পুলিশ সুপার। রাজনৈতিক, পেশাজীবী, সাংবাদিক, বৃদ্ধ এবং শিশু-কিশোর কেউই তার নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
শাহীন চাকলাদার বলেন, পুলিশ সুপার স্বেচ্ছায় বিদায় নিলে ভালো। না হলে তার ঘুষ-বাণিজ্য, অনৈতিকতা বন্ধ করতে আদালতের আশ্রয় নেয়া হবে। মুখোশ উন্মোচনের মাধ্যমে এসপিকে সমুচিত জবাব দেয়া হবে।
এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় নেতা আব্দুল মজিদ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা একেএম খয়রাত হোসেন, মীর জহুরুল ইসলাম, সরদার আসিফ উদ দৌলা অলোক, মাহমুদ হাসান বিপু, জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, সহসভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান, যুবমহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক রোকেয়া পারভীন ডলি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিয়াদ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু, নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম, মশিয়ার রহমান সাগর, নাজনীন নাহার, রিয়াজুল ইসলাম খান রাসেল, আনিছুর রহমান, এহসানুর রহমান লিটু, আব্দুল মান্নান মুন্না প্রমুখ।

শেয়ার