ঋষি মেম্বার প্রার্থীর পক্ষে থাকার জের॥ বোমা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি, যশোরে ঋষিপাড়ায় আতংক

atongko
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর সদরের চাউলিয়া ঋষিপাড়ায় আতংক বিরাজ করছে। সুধন্য চন্দ্র দাস নামে এক ঋষিপল্লীর একজন ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে ভোটে দাঁড়ানোয় তার পক্ষে মাঠে থাকায় ভোটের দিনই তাদের উপর বোমা হামলা করা হয়। সেই বোমা বিস্ফোরণের দায় তাদের উপর চাপানোর চক্রান্ত চলছে। এছাড়া পথে-ঘাটে মারধরের ভয়ে বাজারে যেতেও ভয় পাচ্ছেন।
নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নৌকা জয়ী হয়েছে। এখানে শুধু সংরক্ষিত নারী সদস্য ও পুরুষ সদস্য পদে ভোট হয়েছে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পুরুষ সদস্য পদে সুধন্য চন্দ্র দাস নামে ঋষিপাড়ার একজন নির্বাচন করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের আজিম বিশ্বাসসহ আরও দুই প্রার্থী। ঋষিপাড়ায় ৭৭৬ ভোট। এই ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে না যেতে দিতেই প্রথম থেকেই চাপে রাখা হয়েছিলো। আর ভোটের দিন ফাটানো হয় তিনটি বোমা।সেই বোমা বিস্ফোরণের দায় তাদের উপর চাপানোর চক্রান্ত চলছে। নানাভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। শনিবার দুপুরে ঋষিপল্লীতে গিয়ে এ চিত্র ফুটে উঠেছে।
এখানকার বাসিন্দা জয়ান্তী দাস বলেন, আমাদের কাছ থেকে ব্যালট কেড়ে নিলো। বোমা মেরে তাড়িয়ে দেওয়া হলো। আবার উল্টো বোমা বিস্ফোরণ মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই ভয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছি না। নিকটস্থ রূপদিয়া বাজারে যেতে ভয় পাচ্ছি।
এ পল্লীর বাসিন্দা পুষ্পারানী দাস বলেন, আমাদের কেন্দ্রে নারীদের ভোট ছিলো। আমরা ভোট দিতে গেলে হাতে কালি লাগিয়ে ফিরিয়ে দেয় আজিম বিশ্বাসের লোকজন। তারা বলেছিলেন, ব্যালট তারা বাক্সের ভিতরে দিয়ে দেবে। আমাকে ছিল মারতে দেওয়া হয়নি। একই কথা বলেছেন অনিতা দাস ও ফুলমালা দাস। তারা বলেন, আমার হাতে কালি লাগিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। আমরা ভোট দিতে পারিনি। পুনরায় ভোট চাই। একই দাবি করেছেন মনিমালা দাস।
এদিকে, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারলেও মামলার ফাঁসানোর ভয়ে আছেন ঋষিরা। একই সাথে তাদের উপর হামলা ও নির্যাতনের আতংকে আছেন। এমন কথা জানিয়ে দুলাল দাস ও দিলিপ দাস বলেন, তারা বোমা মেরে ভোট দিতে দিলো না। আবার পুলিশকে ম্যানেজ করে এখন মামলা দেবে বলে হুমকি দিচ্ছে। এ পল্লীর রবি দাস বলেন, শুনেছি আমাদের নামে নাকি মামলা রেকর্ডও হয়ে গেছে। জীবনে বোমা চোখে দেখিনি। আর আমাদের নামে কিনা মামলা হবে। এ বিষয়ে যশোর সদরের নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির আব্দুর রহিম বলেন, এখনও মামলা হয়নি। তবে প্রক্রিয়াধীন আছে। যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস আলী বলেন, তার কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যদিকে, ঋষিদের ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়ে স্বীকার করেছেন ‘অভিযুক্ত’ আজিম বিশ্বাস। তবে তিনি বলেন, আমার লোকজন না তৃতীয় একটি পক্ষ এ কাজটি করছে। আমার ও আমার লোকজন এবং ঋষিরা এক। আমি তাদের ভয় দেখানোর প্রশ্নই আসে না। ভোটে তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রার্থীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ওই পক্ষটি শুধু ঋষিদের না আমাকেও ভয় দেখাচ্ছে

শেয়ার