যশোর সদরে আ’লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়॥

litu
দেবু মল্লিক ও এস হাসমী সাজু॥
যশোর সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে গতকাল ১২টিতে চেয়ারম্যান পদে ভোট গ্রহণ হয়। যার মধ্যে ১০টি নৌকার প্রার্থী ও একটিতে ধানের শীষ জয়ী হয়েছে। আর চাঁচড়া ইউনিয়নে তিনটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করায় বেসকারিভাবে ওই ইউনিয়নের ফলাফলে কাউকে জয়ী ঘোষণা করা হয়নি। তবে চাঁচড়ায় বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর থেকে মাত্র ৫ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। এর আগে তিনটি ইউনিয়নে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
হৈবতপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম ১১ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের রবিউল ইসলাম রবি পেয়েছেন এক হাজার ৫৫৬ ভোট।
চুড়ামনকাটিতে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান মুন্না। তিনি ভোট পেয়েছেন ৯ হাজার ৩৩৮ টি। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আপর প্রার্থী বিএনপির আব্দুস সাত্তার পেয়েছেন দুই হাজার ৭৯৩ ভোট। তবে এই ইউনিয়নের ৭ নং কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। যেখানে ভোটের সংখ্যা তিন হাজার ৮৯৫। দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটের পার্থক্য স্থগিত কেন্দ্রের ভোটের চেয়ে বেশি হওয়ায় মুন্নাকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। কাশিমপুরে ১১ হাজার ৯৫৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মশিয়ার রহমান সাগর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আইয়ুব হোসেন পেয়েছেন দুই হাজার ৩৮৭ ভোট। এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৭৯২ ভোট।
লেবুতলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আলীমুজ্জামান সাত হাজার ৫৩৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন তিন হাজার ৭৩১ ভোট ও আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজু আহমেদ পেয়েছেন ২৫৭ ভোট।
ইছালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের এসএম আফজাল হোসেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ছয় হাজার ৪৭২টি। তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আব্দুল মোতালেব বিশ্বাস চার হাজার ৬১৬ ভোট ও টেবিলল্যাম্প প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাজাহারুল ইসলাম এক হাজার ২৯১টি ভোট পেয়েছেন।
নওয়াপাড়া ইউনিয়নে ১৭ হাজার ৫৮৯ ভোট পেয়ে নৌকার প্রার্থী নাছরিন সুলতানা বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের আলতাফ হোসেন পেয়েছেন মাত্র পাঁচ হাজার ৯২২ ভোট।
উপশহরে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের এহসানুর রহমান লিটু। তিনি ভোট পেয়েছেন তিন হাজার ৮০৫টি। আর তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির রেজাউল ইসলাম কামাল পেয়েছেন মাত্র এক হাজার ১৭৩ ভোট। তবে এই ইউনিয়নে ৭নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রটি স্থগিত করা হয়েছে। যেখানে ভোট রয়েছে এক হাজার ১২টি।
কচুয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের লুৎফর রহমান বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন আট হাজার ২০০টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মালেক (চশমা) পেয়েছেন তিন হাজার ২০৫ ভোট। এছাড়া এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির অধ্যাপক আব্দুর হোসেন খান এক হাজার ৯৭২ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন (আনারস) ১৬৯ ভোট পেয়েছেন।
রামনগর ইউনিয়নে প্রয়াত যুবলীগ নেতা আলমগীগের স্ত্রী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাজনীন নাহার আলমগীর ১১ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাসুদুর রহমান শামীম পেয়েছেন পাঁচ হাজার ১৫৮ ভোট।
বসুন্দিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম খান রাসেল বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১০ হাজার ১শ’ ৬১ ভোট। এবং বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান খাঁন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১শ’ ৫৯।
ফতেপুরে চেয়ারম্যান পদে লড়াইয়ে নামেন চারজন। যার মধ্যে ধানের শীষের রবিউল ইসলাম ৯ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৗকার প্রার্থী শেখ সোহরাব হোসেন পেয়েছেন ৯ হাজার ৪৭ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের আলমগীর হোসেন এক হাজার ৬৯২ ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আবু হারিজ ৪২৩ ভোট পেয়েছেন।
চাঁচড়ার ইউনিয়নের তিনটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোয় বিএনপির গোলাম মোস্তফা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল আজিজ বিশ্বাসের চেয়ে মাত্র পাঁচ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। গোলাম মোস্তফা পেয়েছেন সাত হাজার ৯৪ভোট। আর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ বিশ্বাস পেয়েছেন সাত হাজার ৮৯ ভোট। এছাড়া আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল করিম আনু দুই হাজার ২৩৩ ও ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল কাদির পেয়েছেন ৪৯০ টি ভোট।
এর আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী যশোর সদরের আরবপুরে শাহারুল ইসলাম, দেয়াড়ায় আনিচুর রহমান ও নরেন্দ্রপুরে মোদাচ্ছের আলী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

শেয়ার