আ. লীগে আস্থা বেড়েছে: জরিপ

iri

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বাংলাদেশে গত নভেম্বর থেকে তিন মাসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থাশীল মানুষের সংখ্যা বেড়েছে বলে একটি জরিপে বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) এর জন্য এই জরিপ করে দিয়েছে নিয়েলসন-বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির নেতা জন ম্যাককেইনের নেতৃত্বে পরিচালিত আইআরআইকে ডানপন্থিদের একটি হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকে।
গত ৪ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে চালানো এই জরিপে দেশের আটটি বিভাগের সব জেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের দুই হাজার ৫৫০ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা সবাই ১৮ বছর ও তার বেশি বয়সের।
জরিপে দেখা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৭ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা জানিয়েছেন।
একই প্রতিষ্ঠানের গত বছর ৩০ অক্টোবর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে চালানো জরিপে ক্ষমতাসীন দলকে আস্থায় রেখেছিলেন ৪৮ শতাংশ।
এবার ২৫ শতাংশ বিএনপির প্রতি আস্থার কথা জানিয়েছেন, যেখানে আগের জরিপে তাদের পক্ষে রায় ছিল ২৪ শতাংশের।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৩ শতাংশের মতে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে। এই হার গত নভেম্বরের তুলনায় ৯ শতাংশ এবং বিগত দুই বছরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৩ শতাংশ বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ‘খুবই ভালো’ বা ‘কোনো রকম ভালো’ বলেছেন। আর ৭৭ শতাংশ বলেছেন, দেশ রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল বলে তারা মনে করছেন।

দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী বেশিরভাগ মানুষ। ৭২ শতাংশ বিশ্বাস করেন, আগামী বছর তাদের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে। আর দেশ রাজনৈতিকভাবে আরও স্থিতিশীল হচ্ছে বলে মনে করছেন ৬৫ শতাংশ। অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা মনে করছেন অধিকাংশ।
সমস্যা হিসেবে দুর্নীতিকে চিহ্নিত করেছেন ৯ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ৪৫ শতাংশ ঘুষ দেওয়ার কথা বলেছেন চাকরি পেতে। এরপরে পুলিশকে ঘুষ দেওয়ার কথা বলেছে ১১ শতাংশ।
এবারই প্রথম সংস্থাটি জরিপে বাংলাদেশে চরমপন্থা নিয়ে মতামত নিয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৩ শতাংশ বাংলাদেশে রাজনৈতিক চরমপন্থাকে বড় সমস্যা বলেছেন। অন্যদিকে ৪৪ শতাংশের মতে, ধর্মীয় চরমপন্থা খুব বড় সমস্যা।
চরমপন্থার মূল কারণ হিসেবে ‘রাজনৈতিক মতভিন্নতার’ কথা বলেছেন সবচেয়ে বেশি ৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে মাত্র ৬ শতাংশ এক্ষেত্রে ধর্মীয় উগ্রবাদের কথা বলেছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৭ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। জরিপে সহিংসতার পক্ষে মাত্র এক শতাংশের বিপরীতে ৯৩ শতাংশ তা নাকচ করেছেন।

শেয়ার