পুলিশ সুপারের মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত ইসি॥ শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে মামলা নির্দেশে হতাশ আ’লীগ

Police logo
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ব্যক্তিগত আক্রোশের জের ধরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিভ্রান্ত করেছে। বিভ্রান্ত হয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে আচরণ বিধি লংঘনের অভিযোগে শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর এই নির্দেশনা পেয়েই জনগণের সুখ-দুখের ঠিকানাখ্যাত শাহীন চাকলাদারের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছে পুলিশ। আর এ খবরে ক্ষুব্ধ হয়েছেন যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তারা বলেছেন, শাহীন চাকলাদার দলের প্রার্থীদের পক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন। আচরণ বিধি লংঘনের মতো কোন কাজই তিনি করেননি।
সূত্র মতে, বিশেষ এজেন্ডা নিয়ে যশোরে আসা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান এখানকার আওয়ামী লীগকে নানাভাবে ক্ষতির চেষ্টা করে আসছেন। সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে যাতে নৌকার প্রার্থীরা জয়ী না হতে পারেন সেজন্য আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নামে মামলা দিয়ে শায়েস্তা করতে থাকেন। কিন্তু এ জেলার আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকায় পুলিশ সুপার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও সফল হননি। তাই তো ৩১ মার্চ নির্বাচনে ১২টির মধ্যে ১০টিই নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন আরও তিনজন।
এদিকে ভোটে যাতে নৌকা জিততে না পারে এজন্য বিএনপি-জামায়াতের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে এসপি নানা অপতৎপরতা শুরু করেন। এরই একটি ছিলো শাহীন চাকলাদারকে দমিয়ে রাখা। সেজন্য নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে তাকে শায়েস্তা করার ষড়যন্ত্র করা হয়। দেয়াড়া ইউনিয়ন ও আরবপুর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীকে জোরপূর্বক বসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয় শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ’র তথ্য দিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন পাঠান পুলিশ সুপার। এতে বিভ্রান্ত হয়ে নির্বাচন কমিশন শাহীন চাকলাদারের নামে মামলা নিতে বলেন। ৩১ মার্চ ভোটের একদিন আগে এ সংক্রান্ত একটি ফ্যাক্স বার্তা নির্বাচন কমিশন থেকে পুলিশ সুপারের দপ্তরে আসে। এই বার্তা পেয়েই কোতোয়ালি থানার এসআই মোকাদ্দেস হোসেন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার, আরবপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারুল ইসলাম ও দেয়াড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা আনিচুর রহমান আনিচ।
এদিকে, শাহীন চাকলাদারের নামে মিথ্যা মামলার খবরে নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোটের আমল থেকে অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে দলকে সুসংগঠিত করা এই নেতার নামে মামলা হওয়ায় তারা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহীন চাকলাদার বলেন, বিএনপি-জামায়াত পেট্রোল ঢেলে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। রক্তে রঞ্জিত করেছে রাজপথ। তাদের জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার আগে কুকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। তারা ক্ষমা না চাওয়ায় পৌরসভাসহ বিভিন্ন নির্বাচনে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এবিষয়টি বুঝতে পেরে আরবপুর ও দেয়াড়া ইউনিয়নে তাদের প্রার্থী আগেভাবে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ান। তারা নিজের ইচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে আমার নামে হুমকির যে অভিযোগ করা হয়েছে সেটা শুনে বিস্মিত হয়েছি। এ ধরনের ঘৃণ্য কাজ আমি করি না। তিনি এটাকে গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন। এর পেছনে বিএনপি-জামায়াতের এজেন্টে’র হাত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শেয়ার