কলকাতায় ফ্লাইওভার ধসে বহু হতাহত

hawra
সমাজের কথা ডেস্ক॥ কলকাতার জোড়াসাঁকোতে নির্মাণাধীন বিবেকানন্দ ফ্লাইওভার ধসে বহু মানুষ হতাহতের খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনার পর অন্তত ১৪ জনের লাশ উদ্ধারের খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, নিহতের সংখ্যা ১৮। কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নিচে দেড় শতাধিক মানুষ আটকা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গণেশ টকিজের কাছে ফ্লাইওভারের একাংশ ভেঙে নিচে যানবাহনের ওপর পড়ে। নিচে আটকা পড়ে একটি কয়েকটি যাত্রীবোঝাই বাস, কয়েকটি প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন।
কংক্রিটের নিচে চাপা পড়া কোনো একটি গাড়িতে আগুনও ধরে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ মানুষ খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে। পরে যোগ দেন ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
পূর্ণমল ধানুকা নামের একজনকে উদ্ধৃত করে আনন্দবাজার লিখেছে, “আচমকা যেন বোমা ফাটার আওয়াজ হলো বাইরে। তাড়াতাড়ি বাইরে বেরিয়ে দেখি চারদিক ধোঁয়ায় ভরে গেছে। চোখের সামনে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল ব্রিজের একাংশ। ততোক্ষণে লোকজন দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিয়েছে।”
গিরিশ পার্কের কাছে অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ বিবেকানন্দ ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৯ সালে। এরপর কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ালেও প্রকল্পের কাজ আর শেষ হয়নি।
ঘিঞ্জি এলাকায় গায়ে গায়ে ভবনের ফাঁকে অনেকগুলো সরু গলি ওই এলাকায় মূল সড়কের সঙ্গে মিশেছে।স্বাভাবিকভাবেই রাস্তার দুই পাশে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের দোকান।
শশীকান্ত নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা আনন্দবাজারকে বলেন, “ঘটনার সময় পরিবারের লোকজনকে নিয়ে একেবারে দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম। এতো বড় দুর্ঘটনার পর কী করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না।”

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বিকাল ৫টা পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
ফ্লাইওভারের যে অংশটি ভেঙে পড়েছে, সেই অংশের গার্ডার বুধবার রাতে ঢালাই করা হয়েছিল বলে আনন্দবাজার জানিয়েছে।
কংক্রিটের নিচে আটকেপড়াদের উদ্ধারে ড্রিল মেশিন দিয়ে পাথরের স্ল্যাব কাটা হচ্ছে। ক্রেন দিয়ে সরানো হচ্ছে কংক্রিটের টুকরো। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া একটি ট্যাক্সির যাত্রীদের উদ্ধারে চিকিৎসা কর্মীদের কাজ করতে দেখার কথা রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।
আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে ঘটনাস্থলে বিশেষ ধরনের ক্যামেরা পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন চারশ সেনা সদস্য।
আনন্দবাজার জানিয়েছে,ধসের ভয়াবহতা দেখে ওই এলাকায় বিক্ষোভ ও হৈ চৈ শুরু হয়। দুর্ঘটনার পর ছুটে আসা উৎসুক মানুষের ভিড় ঠেকাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
এ পরিস্থিতিতে বিবেকানন্দ ও চিৎপুর রোডসহ কলকাতার একাধিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে শোক প্রকাশ করেছেন; হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মেদিনীপুরের সভা বাতিল করে ঘটনাস্থলে ছুটে গেছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

শেয়ার