যশোর সদরের ১৫ ইউপি নির্বাচন॥ প্রচারণা শেষ, রাত পোহালেই ভোট

filnnnn
দেবু মল্লিক ॥
রাত পোহালেই যশোর সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতীক বরাদ্দের পর ১৪ দিন জোরসে প্রচারণা চালিয়েছেন ৬০৯ জন প্রার্থী। যা গতকাল রাতে শেষ হয়। ইতোমধ্যে আগামীকালের চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতিও সেরে নিয়েছেন চেয়ারম্যান পদে ৩৪ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১২৯ জন ও সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৪৬ জন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। তবে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ বিএনপির বাইরে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হবে নৌকা আর ধানের শীষের মধ্যে।
১৪ মার্চ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া পরপরই প্রার্থীরা গ্রামে গ্রামে মাইকিং করার পাশাপাশি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েন। সমান তালে চলে পোস্টারিংয়ের কাজ। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে প্রার্থীরা ভোট প্রার্থনা করেন। তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণার এসব কর্মতৎপরতা গতকাল রাতে শেষ হয়েছে। প্রচারণা চলাকালে প্রর্থীরা একে অপরের বিপক্ষে অভিযোগ করলেও নির্বাচনী আচরণ লংঘন হয় এমন কোন আলোচিত ঘটনা ঘটেনি বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।
১৩ মার্চ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির তিন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে আরবপুর, নরেন্দ্রপুর ও দেয়াড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বাকি ১২ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ছাড়াও চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে এবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৪ জন।
হৈবতপুর ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন নৌকার প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম ও ধানের শীষের রবিউল ইসলাম রবি। চুড়ামনকাটিতে চেয়ারম্যানের পদ দখল নিতে প্রতিযোগিতায় আছেন আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান মুন্না ও বিএনপির আব্দুস সাত্তার। কাশিমপুরে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আমির হোসেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে নিজেকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নেন। ফলে এই ইউনিয়নে আওমীলীগ মনোনীত মশিয়ার রহমান সাগর ও বিএনপির আইয়ুব হোসেনের মধ্যেই চেয়ারম্যান পদে লড়াই হচ্ছে। লেবুতলা ইউনিয়নে রাজু আহমেদ আনারস প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকলেও মূলত লড়াই হচ্ছে আওয়ামী লীগের আলীমুজ্জামান ও বিএনপির মনোয়ারুল ইসলামের মধ্যে। ইছালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদের লড়াইয়ে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের এসএম আফজাল হোসেন, বিএনপির আব্দুল মোতালেব বিশ্বাস ও টেবিল ল্যাম্প প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাজাহারুল ইসলাম। নওয়াপাড়া ইউনিয়নে মাঠে আছেন নৌকার প্রার্থী নাছরিন সুলতানা, ধানের শীষের আলতাফ হোসেন ও হাতপাখা মার্কার এনামুল হাসান। উপশহরে দ্বিমুখী লড়াই হচ্ছে আওয়ামী লীগের এহসানুর রহমান লিটু ও বিএনপির রেজাউল ইসলাম কামালের মধ্যে। চেয়ারম্যান পদে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নে। এখানে আওয়ামী লীগের লুৎফর রহমান, বিএনপির অধ্যাপক আব্দুর হোসেন খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাকির হোসেন (আনারস) ও আব্দুল মালেক (চশমা) চেয়ারম্যান পদের জন্য জোরেসোরেই নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। রামনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন নাজনীন নাহার আলমগীর ও মাসুদুর রহমান শামীম। সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত যুবলীগ নেতা আলমগীরের স্ত্রী হিসেবে ভোটারদের ভাল সমর্থন পাচ্ছেন নাজনীন নাহার। বসুন্দিয়ায় নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের নেতা সিরাজুল ইসলাম খান রাসেল প্রচারণায় বিএনপির অ্যাডভোকেট নূর জামান খান বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছেন। চাঁচড়ার ইউনিয়নময় ছেয়ে গেছে নৌকার প্রার্থী আনোয়ারুল করিম আনু, ধানের শীষের গোলাম মোস্তফা, হাতপাখার আব্দুল কাদির ও আব্দুল আজিজ বিশ্বাসের পোস্টারে। তবে মূল লড়াই হচ্ছে নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে। ফতেপুরে চেয়ারম্যান পদে লড়াইয়ে আছেন চারজন। যার মধ্যে নৌকার প্রার্থী শেখ সোহরাব হোসেন ও ধানের শীষের রবিউল ইসলামের মধ্যেই মূল লড়াই হচ্ছে। তবে মাঠে আছেন লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আবু হারিজ ও স্বতন্ত্র মোটরসাইকেট প্রতীকের আলমগীর হোসেন।
আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হলেও গ্রাম গ্রামান্তরের চায়ের দোকানগুলোয় জমপেশ ভোট আড্ডা চলছে। যেখানে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনি ওয়ার্ড মেম্বার ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার প্রার্থীরাও আলোচনায় আছেন। কোন কোন আড্ডার কেন্দ্র বিন্দু স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বাররা

শেয়ার