যশোরের পালবাড়ি থেকে দড়াটানা হয়ে মণিহার-বকচর মহাসড়ক॥ পুরাতন খোয়া ও নিম্নমানরে বালু দিয়ে চলছে মেরামত কাজ

nimno
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর শহরের পালবাড়ি থেকে দড়াটানা হয়ে মণিহার-বকচর মহাসড়কটি অতিগুরুত্বপূর্ণ। খুলনা, সাতক্ষীরা, মংলা, বেনাপোল ও ভোমরা এলাকা থেকে ছেড়ে আসা প্রতিদিন হাজার হাজার মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী পরিবহন এই মহাসড়কটি ব্যবহার করে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ রাজধানীতে পৌঁছে যায়। অতিরিক্ত লোড নিয়ে যানবাহন চলাচল করায় মহাসড়কটি স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। বর্ষায় হাঁটু কাদা আর গ্রীষ্মে ধূলার সাগরের পাশাপাশি বড় বড় গর্ত এই সড়কটির নিত্যদৃশ্য। বিভিন্ন সময় যা সংস্কার আর পুনঃনির্মাণ করলেও কয়েক দিন যেতে না যেতেই একই দৃশ্যপট। বর্তমানে এই সড়কটি নতুন করে মেরামতের কাজ চলছে। তবে ব্যবহার করা হচ্ছে পুরাতন খোয়া আর নি¤œমানের বালি। স্থানীয়রা বলছেন যেভাবে কাজ হচ্ছে তা ছয় মাসও টিকবে না।
সরেজমিন দেখা যায়, বর্তমানে বকচর হুশতলা এলাকায় কাজ চলছে। সেখানে বেশ গভীর করে খনন করা হয়েছে। তবে সেখানে আবার পুরাতন খোয়া আর নি¤œমানের বালি দিয়ে ভরাট করে রুলার দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় আবু বক্কর সিদ্দিকী নামে এক ব্যক্তি জানান, সড়কটি দিয়ে প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। তাই বেশ মজবুত করে নির্মাণ না করা হলে সড়কটি টিকবে না। কিন্তু মেরামতে যে মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে তা ছয় মাসও টিকবে না। একই অভিযোগ মুস্তাফিজুর রহমান নামে এক ইজিবাইক চালকের। তারা দৈনিক সমাজের কথাকে জানান, প্রতিবার নির্মাণের পরপরই সড়কটি আবার আগের মতো হয়ে যায়। ফলে অধিকাংশ সময় বড় বড় খানাখন্দে ভরা থাকে। তাই চলাচলে দারুণ সমস্যা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে কাজ হচ্ছে দেখে তারা খুশি হয়েছিলেন। তবে কাজ শুরু হতে না হতেই তারা আশাহত হয়েছেন। এক বর্ষাও রাস্তাটি টিকবে না বলে তারা মনে করেন।
শহরের পালবাড়ি থেকে মুড়লি মোড় পর্যন্ত মহাসড়কটির মেরামতে ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্বে আছেন মঈনুদ্দিন বাকি। তার এ কাজের তদারকিতে থাকা মিজানুর রহমান গতকাল বকচর এলাকায় এ প্রতিবেদককে জানান, বেশ মজবুত করেই নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। ভাল মানের বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরাতন খোয়া ব্যবহার করা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মিজানুর রহমান বলেন, পুরাতন খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে ঠিক। কিন্তু ওই খোয়ার টেম্পার রয়েছে। আশাকরি রাস্তাটিতে কয়েক বছরের মধ্যে কোন সমস্যা হবে না।
যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন জানান, বকচর-হুশতলা এলাকায় রাস্তা বেশি খারাপ হয়। তাই ঠিকাদারকে অনুরোধ করে সেখানে স্টিমেটের চেয়ে অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে। নিচে পুরাতন খোয়া ব্যবহার করা হলেও উপরে অবশ্যই নতুন খোয়া দিতে হবে। উপরে যাতে নতুন খোয়া দেয় সেজন্য তারা তদারকি করবেন।

শেয়ার