রাত পোহালেই দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ

bgb

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ রাত পোহালেই ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণ। ৩১ মার্চ দ্বিতীয় দফার এই নির্বাচনে ৬৪৩টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে এই ইউনিয়নগুলোর প্রচার প্রচারণা শেষ হয়েছে। এদিন ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বর প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে শেষবারের মত তাদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৩১ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এতে ১৭টি দল চেয়ারম্যান পদে ১ হাজার ৫০৭ জন প্রার্থী দিয়েছে। আর স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করছেন ১ হাজার ১৭৭ জন প্রার্থী।
আগামীকাল ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দ্বিতীয় দফায় দেশের ৬৪৭টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। গতকাল ছিল প্রচারণার শেষ দিন। প্রথম ধাপে গত ২২ মার্চ ইউপি নির্বাচনে বেশ কিছু সহিংসতার ঘটনায় এবার দ্বিতীয় দফায়ও সহিংসতার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না ইসি। আর সে কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর হতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যে কোনো ধরনের অনিয়মের দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিতে হবে এমন বার্তাও পৌঁছে গেছে তাদের হাতে। ভোটকর্মী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলেও জানিয়েছে ইসি।
এদিকে দ্বিতীয় দফায় ইউপি নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে সয়লাব। কোথাও কোথাও তৈরি করা হয়েছে সুদৃশ্য তোরণ। মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা নিয়ে র‌্যালি করেছেন প্রার্থীরা। নির্বাচন উপলক্ষে গ্রামে-গঞ্জে এখন ভোটের উত্তাপ তুঙ্গে। বাদ যায়নি হাট-বাজারও। চায়ের কাপে উঠছে ভোটের ঝড়। কে জিতবে, কাকে ভোট দেব এ নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ। শেষ মুহূর্তে ভোটারের মন পেতে চলছে চূড়ান্ত জনসংযোগের পালা। প্রার্থী ছাড়াও তাদের পরিবারের সদস্যরাও নেমে পড়েছেন মাঠে।
এদিকে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, প্রথম দফা নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করেছেন, দ্বিতীয় দফাও তাদের প্রার্থীরা জয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আবার নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। যদি কোনো দুষ্কৃতকারী গন্ডগোল পাকাতে চায় বা ভোটে সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে তা চরমভাবে প্রতিহত করা হবে। আবার যদি কোনো ভোট কর্মী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারো কোনো গাফিলতি দেখা যায়, যদি কেউ দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ইসি কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে জানান এ কমিশনার।
উল্লেখ্য, ৩১ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হবে। ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ২ মার্চ ছিল দ্বিতীয় দফায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন। জমার শেষ দিনে দ্বিতীয় দফায় ৬৪৭ ইউপিতে নির্বাচনের জন্য চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে মোট ৩৩ হাজার ২৮৭ প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে মোট প্রার্থী ৩ হাজার ১০৮, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৬ হাজার ৭৯৯ এবং সদস্য পদে ২৩ হাজার ৩৭৭ প্রার্থীর তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। চেয়ারম্যান পদে ১৫ রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মিলে ১ হাজার ৫৫৫ এবং স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান হিসেবে ১ হাজার ৫৫৩ প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ৫৮৭, আওয়ামী লীগের ৬৪৫ ও জাতীয় পার্টির মোট ১৭৫ প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচনে ৯৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮১জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
ইসি জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফায় মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে মোট ১৩ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে ফেনীর পরশুরাম উপজেলা তিন ইউপিতে নির্বাচন স্থগিত করে দিয়েছে কমিশন।
উল্লেখ্য, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মোট ছয় ধাপে সম্পন্ন করা হবে এই নির্বাচন। গত ২২ মার্চ প্রথম দফায় ৭৩৪ ইউপিতে ভোট হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ৩১ মার্চ ৬৫১ ইউপিতে, তৃতীয় দফায় ২৩ এপ্রিল হবে ৬৮৭টিতে ও চতুর্থ দফায় ৭ মে ৭২৮টি ইউপিতে ভোট হবে। এ ছাড়াও পঞ্চম দফায় ২৮ মে ৭১৪টি এবং ষষ্ঠ দফায় ৪ জুন ৬৬০টি ইউপির ভোটগ্রহণ হবে।

শেয়ার