মিশরীয় বিমান ছিনতাইকারীর আত্মসমর্পণ

biman
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ‘বোমার ভয় দেখিয়ে’ একটি মিশরীয় উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের ছয় ঘণ্টা পর সাইপ্রাসের এক বিমানবন্দরে আত্মসমর্পণ করেছেন সেই ছিনতাইকারী। সাইপ্রাসের টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, দুই হাত উপরে তুলে উড়োজাহাজ থেকে বেরিয়ে আসছেন তিনি। এর পরপরই সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক টুইটে বলেন, “ছিনতাই সঙ্কটের অবসান ঘটেছে।” ওই বিমানের অর্ধ শতাধিক আরোহীর অধিকাংশকে আগেই ছেড়ে দিয়েছিলেন সেই ছিনতাইকারী।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, ছিনতাইকারী একজন মিশরীয় নাগরিক। তিনি সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন, যিনি সাইপ্রাসে থাকেন। ছিনতাইকারী আত্মসমর্পণ করার ঘণ্টা দুই আগে সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাস্তাসিয়াদেস সাংবাদিকদের বলেন, “এটা সন্ত্রাসবাদ জাতীয় কোনো ঘটনা নয়।”
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় আলেকজান্দ্রিয়া থেকে রওনা হয়ে কায়রো যাওয়ার পথে ছিনতাই হয় ইজিপ্টএয়ারের অভ্যন্তরীণ রুটের এয়ারবাস এ৩২০ মডেলের উড়োজাহাজটি।
ছিনতাইকারী উড়োজাহাজটিকে সাইপ্রাসে নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর লারনাকার বিমানবন্দরে নামতে বাধ্য করে।
ওই বিমানের পাইলট ওমর আল-জামালের বরাত দিয়ে মিশরের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের মধ্যে থেকেই একজন উঠে এসে বিস্ফোরক বেল্ট দেখিয়ে হুমকি দেয় এবং লারনাকায় নামতে বাধ্য করে।
অবশ্য সেই ছিনতাইকারীর বেল্টে সত্যিই বিস্ফোরক ছিল কি না- তা নিশ্চিত করতে পারেননি সাইপ্রাসের কর্মকর্তারা।
সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার পর পাইলট, কো পাইলট, তিন কেবিন ক্রু ও তিন বিদেশি যাত্রীকে রেখে ছিনতাইকারী বাকিদের তিন দফায় ছেড়ে দেয় বলে ইজিপ্টএয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়।
এরপর স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে ওই উড়োজাহাজ থেকে যাত্রীদের নেমে একটি বাসে উঠতে দেখা যায়।
ছিনতাইকা-ের উত্তেজনার মধ্যে লারনাকা বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ থাকে। সাইপ্রাসমুখী সব বিমানকে অন্য দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শেয়ার