ইংল্যান্ডের সামনে অপরাজেয় নিউ জিল্যান্ড

engladend

সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে উন্মুখ নিউ জিল্যান্ড। সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবার পরীক্ষায় নামতে হবে কৌশলী দলটিকে। দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে সেমি-ফাইনালে পৌঁছানো ওয়েন মর্গ্যানরাও প্রস্তুত টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে।
আজ বুধবার নিউ জিল্যান্ড-ইংল্যান্ডের সেমি-ফাইনাল শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।
ভারতে কিভাবে খেলতে হবে তা নিয়ে অন্য দলগুলো যেখানে অনিশ্চিত সেখানে সাবলীলভাবে এগিয়ে চলেছে নিউ জিল্যান্ড। অন্যরা যেখানে এখনও হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত সে সময় সঠিক সমন্বয়ই সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে দলটির জন্য।
সেরা একাদশ বেছে নিতে টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্টের মতো দুই বোলারকে বসিয়ে রেখেছে নিউ জিল্যান্ড। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অবিশ্বাস্য শোনাত সম্পূর্ণ ফিট থাকার পরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ পাবেন না এই দুই পেসার।
নাগপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে স্বাগতিক ভারতকে হারিয়ে নিউ জিল্যান্ডের জয়যাত্রা শুরু। ধর্মশালায় পেসার মিচেল ম্যাকক্লেনাগান পার্থক্য গড়ে দেন তাসমান সাগরপারের আরেক দেশ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। মোহালির তুলনামূলক দ্রুত গতির উইকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে কার্যকর ভূমিকা পালন করেন আরেক পেসার অ্যাডাম মিল্ন।
কলকাতার মন্থর-দুই গতির উইকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে আবার সামনে আসেন ত্রয়ী স্পিনার মিচেল স্যান্টনার, ইশ সোধি ও নাথান ম্যাককালাম।
২০১৪ সালের শেষ দিকের পর থেকে উপমহাদেশে খেলেনি নিউ জিল্যান্ড, সেই দলটিই সবার আগে নিশ্চিত করে সেমি-ফাইনাল। গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচেই আগে ব্যাট করে নিউ জিল্যান্ড, প্রতি ম্যাচেই লড়াইয়ের পুঁজি পাওয়ায় বোলারদের বাকি কাজটুকু সারতে কোনো সমস্যা হয়নি।
সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অসাধারণ অধিনায়ক উইলিয়ামসন, পেছনে আছেন ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিস্কের মাইক হেসন। তাদের যুগল বন্দিতে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে পৌঁছায় নিউ জিল্যান্ড।
সরল রেখার মতো এগিয়ে যাওয়া নিউ জিল্যান্ডের বিপরীতে ফাইনাল উঠার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সে আছে উত্থান-পতন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা মর্গ্যানের দল ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে।
শেষের ঝড়ে লড়াইয়ে পুঁজি গড়ে তারা আফগানিস্তানের বিপক্ষে। বাঁচা-মরার ম্যাচে কোনোমতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে পৌঁছায় শেষ চারে। দলটি ততটা দাপুটে ক্রিকেট হয়ত খেলছে না কিন্তু জয়ের পথ ঠিকই খুঁজে নিচ্ছে।
কোটলায় এরই মধ্যে দুটি ম্যাচ খেলেছে ইংল্যান্ড। দলটির ব্যাটিং গভীরতাও যথেষ্ট। তবে বোলিংয়ে কিছুটা দুর্বলতা রয়েই গেছে তাদের।
নিউ জিল্যান্ডের জয়ে বড় অবদান রাখছেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিল। টুর্নামেন্টে দলের একমাত্র অর্ধশতকটি এসেছে তার ব্যাট থেকেই। তিনি ছাড়া কেউ সেভাবে বড় ইনিংস খেলেননি টুর্নামেন্টে, তাকে দ্রুত ফেরাতে পারলে মানসিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে ইংল্যান্ড।
টুর্নামেন্টে এখনও কোনো ম্যাচে লক্ষ্য তাড়া করেনি নিউ জিল্যান্ড। তাই লক্ষ্য তাড়ায় তারা কেমন সেই পরীক্ষা হয়নি এখনও।

শেয়ার