মুসলিম বলে সুকির অগ্নিমূর্তি দেখলেন মিশাল!

Suki
সমাজের কথা ডেস্ক॥ তিনি শান্তিতে নোবেল জয়ী। অথচ সামান্যেই এমন অশান্ত আচরণ করছেন যে, এখন বিশ্বজুড়ে তার সমালোচনা চলছে। বার্মায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে অং সান সু কি’র অবদান বিশ্ববাসীর জানা। কিন্তু এখন থেকে মানুষ এও জানলো তিনি একজন প্রতিক্রিয়াশীল। ঘোর মুসলিম বিরোধী। একজন গোঁড়া।
বিবিসি’র সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন অং সান সুকি। সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন বিবিসি টুডের প্রেজেন্টার মিশাল হুসেইন। সাক্ষাৎকারের মাঝে যখন বার্মায় সংখ্যালঘিষ্ট মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ এলো তখনই অগ্নিমূর্তি ধারণ করলেন সুকি। তিনি অফ এয়ারে যেতে বাধ্য করলেন, আর বললেন, আমাকে বলা হয়নি একজন মুসলিম নারী আমার সাক্ষাৎকার নেবে।
ঘটনাটি ২০১৩ সালের। যা ‘দ্য লেডি অ্যান্ড দ্য জেনারেল’ নামে একটি বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে। পিটার পপহামের ওই বইয়ে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে সংখ্যা লঘিষ্ট মুসলিমদের ব্যাপারে সেসময়ের সরকারের মতো একই সহিংস মনোভাব পোষণ করতেন অং সান সুকি।
সাক্ষাৎকারে মিশাল হুসেইন মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর হামলে পড়ার চিত্র তুলে ধরে সুকির কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ইসলামবিরোধী এই মনোভাবের তিনি নিন্দা করবেন কিনা। তখন তিনি বলেছেন, অনেক বৌদ্ধকেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। আর এটা আসলে স্বৈরশাসনেরই ফল।
বইয়ে বলা হয়েছে সুকি আসলে তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতেই মুসলিম বিরোধী অবস্থান নেন কারণ তিনি জানতেন দেশের অনেকেই মুসলমানদের ওপর এই অত্যাচারকে সঠিক বিবেচনা করছে, আর তিনি তার সমর্থন হারাতে চান নি।

মিয়ানমারে মুসলিম জনগোষ্ঠী মাত্র ৪ শতাংশ। এরা রোহিঙ্গা মুসলিম আর এক সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেই তাদের বসবাস। তাদের এমনকি বার্মার নাগরিক হতেও দেওয়া হয়না।
মিশাল হুসেন, ৪৩, একজন মুসলিম। বিবিসির জন্য তিনি তার নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতায় কাজ করেন। তিন সন্তানের মা মিশালের জন্ম যুক্তরাজ্যের নর্থাম্পটনে। তার বাবা-মা পাকিস্তানি। যুক্তরাজ্যে তিনি প্রথমে প্রাইভেট স্কুলে পরে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন।

শেয়ার