মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ

flower
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ লাখো শহীদের বিন¤্র শ্রদ্ধা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার দৃপ্ত শপথের মধ্য দিয়ে যশোরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে যশোর কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে যশোরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শহরের মণিহার এলাকায় বিজয়স্তম্ভে শহীদের প্রতি পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। একই সাথে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের সংবর্ধনা জানানো হয়। শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ, কুচকাওয়াজ, শরীর চর্চা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভিত্তিক ডিসপ্লে। সন্ধ্যায় টাউন হল ময়দানে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্বাধীনতার ৪৬তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে শনিবার সকালে জেলার সব সরকারি ও বে-সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করার পাশাপাশি দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, শিশুদের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চিত্রাংকন, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র ও পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আয়োজন করা হয় বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প। সকালে ৬টা ১৫ মিনিটে জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসন শহরের মণিহার এলাকায় বিজয়স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান যবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর নেতৃত্বে জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সহযোগী সংগঠন, যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিজয়স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। যশোর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে দেশের মান সমুন্নত রাখতে মুষ্টিবদ্ধ শপথ পাঠ করান বীর মুক্তিযোদ্ধা গণফোরামের যশোরের সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী আব্দুস শহীদ লাল।
এদিকে, সকালে যশোর শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামে সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভিত্তিক ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়। আয়োজনের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার সাথে সাথে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা। জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। বেলা সাড়ে ১১ টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে টাউন হল ময়দানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের শিল্পীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কাজী আব্দুস শহীদ লাল, বৃহত্তর যশোরের যুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনীর প্রধান আলী হোসেন মনি, উপপ্রধান রবিউল আলম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার রাজেক আহমেদ, বীর বিক্রম নুরুল হক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদর উপজেলা ইউনিট কমান্ডার মোহাম্মদ আলী স্বপন প্রমুখ। আলোচনার শুরুতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। বক্তারা এসময় স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহবান জানান। একইসাথে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে অনুরোধ করেন বক্তারা। বক্তারা আরও বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে সেদিনের কিশোর ও যুবকরা মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই চেতনার আলোকে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করতে হবে। তবেই স্বাধীনতাযুদ্ধের নিহত বীরদের আত্মা শান্তি পাবে।

শেয়ার