মণিরামপুরে একটি কেন্দ্রের ফল পাল্টে গেল রিটার্র্নিং অফিসে !॥ প্রিজাইডিং অফিসার আত্মগোপনে

oniom
নিজস্ব প্রতিবেদক, মনিরামপুর॥ ইউপি নির্বাচনে যশোরের মনিরামপুরে একটি ভোট কেন্দ্রে তুঘলকি কান্ড ঘটিয়েছেন এক প্রিজাইডিং অফিসার। ভোট গণনা শেষে তিনি ওয়ার্ড মেম্বর হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করেন সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত আবদুল জব্বারকে। পরে রাতে উপজেলা রিটার্নিং অফিসে এসে তিনি আবার সেই ফলাফল পাল্টে দিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করেন ওই কেন্দ্রের তৃতীয় ভোট প্রাপ্ত প্রার্থী হাবিবুর রহমানকে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে ওই প্রিজাইডিং অফিসার আতœগোপনে রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ২২ মার্চ ইউপি নির্বাচনে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের গালদা খড়িঞ্চী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া ছাড়াও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানাগেছে।
জানাযায়, ২২ মার্চ ইউপি নির্বাচনে মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের গালদা খড়িঞ্চী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন মনিরামপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক প্রনয় কুমার বিশ্বাস। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন করা হয়। প্রিজাইডিং অফিসারের সামনে সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররা প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা শেষ করেন। এতে ওই কেন্দ্রে ৪ নং ওয়ার্ডে ৪ মেম্বর প্রার্থীর মধ্যে আবদুল জব্বার টিউবয়েল প্রতীকে ৪০১ ভোট, মাহাবুবুর রহমান মোরগ প্রতীকে পান ৩৫১ ভোট, শহিদুল ইসলাম আপেল প্রতীকে পান ১০৮ ভোট এবং হাবিবুর রহমান তালা প্রতীকে পান ৩৩৩ ভোট। সে অনুযায়ি প্রিজাইডিং অফিসার প্রনয় কুমার বিশ্বাস ওয়ার্ড মেম্বর পদে সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত (টিউবয়েল প্রতীক) আবদুল জব্বারকে বিজয়ী ঘোষণা করে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করে প্রার্থীদের কাছে সরবরাহ করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ২২ মার্চ রাতে ওই প্রিজাইডিং অফিসার আগের ফলাফল পাল্টে তৃতীয় ৩৩৩ ভোট প্রাপ্ত প্রার্থী হাবিবুর রহমানকে নতুন করে ৪৬৭ ভোট দেখিয়ে বিজয়ী করে ফলাফল শিট তৈার করে রিটার্নিং ও উপজেলা নির্বাচন অফিসারের নিকট জমা দেন। পরবর্তিতে বিষয়টি জানাজানি হলে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়সহ এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে আবদুল জব্বার রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। আবদুল জব্বারের অভিযোগ, প্রিজাইডিং অফিসার মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ভোটের ফলাফল পাল্টে দিয়েছে। তবে প্রিজাইডিং অফিসার প্রনয় কুমার বিশ্বাস এ ঘটনার পর থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন। রিটার্নিং ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার সৈয়দ আল এমরান অভিযোগপত্র পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রিজাইডিং অফিসারের দায় আমরা নেব না।

শেয়ার