‘তুরস্কের সতর্কতা উপেক্ষা করেছিল বেলজিয়াম’

beljium
সমাজের কথা ডেস্ক॥ বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হামলাকারীদের একজনকে গেল বছর ফেরত পাঠানো হয়েছিল জানিয়ে তুরস্ক বলেছে, ফেরত পাঠানো ওই ব্যক্তি জঙ্গি এমনটি জানানোর পরও বেলজিয়াম সতর্ক হয়নি।
বুধবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়িপ এরদোয়ান এসব কথা বলেছেন।
ওই ব্যক্তিকে ইব্রাহিম এল বাকরাওয়ি বলে শনাক্ত করেছে এরদোয়ানের দপ্তর। ব্রাসেলসের হামলার জন্য বেলজিয়াম যে দুই ভাইকে দায়ী করেছে বাকরাওয়ি তাদের একজন।
মঙ্গলবার ব্রাসেলসের দুটি আলাদা স্থানে চালানো ওই হামলায় অন্ততপক্ষে ৩১ জন নিহত হন। ইসলামিক স্টেট (আইএস) হামলার দায় স্বীকার করেছে।
আগের কয়েকটি ঘটনায় বেলজীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া শুধু সিরিয়ায় যুদ্ধ করেছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে তুরস্ক থেকে পাঠানো কাউকে তারা কারাগারে আটক রাখতে পারেন না।
এসব ঘটনাগুলোর মধ্যে আব্দেস্লামের বিষয়টিও রয়েছে। গেল বছরের প্রথমদিকে তুরস্ক থেকে আব্দেস্লামকে বেলজিয়ামে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। উল্লিখিত যুক্তিতে আব্দেস্লামকে আটক না রাখার পর ওই বছরের শেষ দিকে ১৩ নভেম্বর প্যারিসে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা চালায় আব্দেস্লাম ও তার সঙ্গীরা।
প্যারিস হামলায় ১৩০ জন নিহত হন। ওই হামলায় আব্দেস্লামের আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোর কথা থাকলেও তা না করে তিনি পালিয়ে যান। ব্রাসেলস থেকে এই আব্দেস্লাম ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পরপরই ব্রাসেলসেও প্রাণঘাতী আত্মঘাতী হামলা হল।
এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান জানিয়েছেন, বাকরাওয়িকে সিরীয় সীমান্ত সংলগ্ন তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপ থেকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে নেদারল্যান্ডসে ফেরত পাঠানো হয়।
বাকরাওয়ির বিষয় নেদারল্যান্ডস কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল বলে জানান এরদোয়ান।

প্রতিক্রিয়ায় নেদারল্যান্ডসের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, “এরদোয়নের মন্তব্য সতর্কভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
কিন্তু বাকরাওয়ি নেদারল্যান্ডসে ছিলেন কিনা তা এখনও জানাননি তারা।
এরদোয়ান বলেন, “ব্রাসেলসের এক হামলাকারীকে আমরা ২০১৫ সালের জুনে গাজিয়ানতেপ থেকে আটক করে ফেরত পাঠিয়েছিলাম। ওই বছরেরই ১৪ জুলাই আঙ্কারার বেলজীয় দূতাবাসকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আমরা জানিয়েছিলাম, কিন্তু পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।”
“এই ব্যক্তি একজন বিদেশি যোদ্ধা, এটি জানানোর পরও বেলজিয়াম আমাদের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেছিল”, বলেন এরদোয়ান।

শেয়ার