মোড়েলগঞ্জে হামলায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আহত॥ পুলিশের গুলি ॥ শরণখোলায় মারপিটে প্রার্থীর ভাইপো আহত

ahoto
কামরুজ্জামান, বাগেরহাট॥ বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার দুটি ইউনিয়নে হামলা ও প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন কমবেশি আহত হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সিংজোড় চন্ডিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট চলাকালে বেলা ১১টার দিকে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে সন্ত্রাসীরা। এসময় তাদের লাঠির আঘাতে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হাবিবুল¬াহ আহত হন। হামলার পর ওই ওয়ার্ডের ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই ঘটনার পর ওই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বি এক প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগে মোড়েলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী মিলন শেখকে পুলিশ আটক করে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ডা. পিযুষ কান্তি ঘোষ বলেন, এই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলাকালে আড়াই থেকে তিনশ লোক লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তারা কেন্দ্রের জানালা দরজা ভাংচুর শুরু করে। ওই কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হাবিবুল¬াহ তা ঠেকাতে গেলে তাকেও তারা মারধর করে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পরে ওই কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেখানে কিছুক্ষণের জন্য ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়। মোড়েলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) তারক বিশ^াস বলেন, কামাল নামে এক প্রতিদ্বন্দ্বি মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মিলন নামে অপর এক প্রার্থী মারধর করে। কামালের চার সমর্থক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই মারধরের অভিযোগের মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে। এদিকে জেলার চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের ভ্রম্যগাতি সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পিজাডিং অফিসার রনিকে পক্ষপাতিত্যের অভিযোগে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এছাড়া বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের গোপালকাঠি গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডে দুপুর ১টার সময় ইউপি সদস্য প্রার্থী হায়বাত শেখের সমর্থকদের উপর হামলা চালায় প্রতিদ্বন্দ্বি শাহ আলম বিপ্লবের সমর্থকরা। এসময় শাহ আলম বিপ্লবের সমর্থকদের হামলায় হায়বাত শেখের সমর্থক শেখ কালাম, বাবু হায়দার, শাহ শেখ, মাহাবুবুল মলি-ক, তাজো বেগম ও নাসিমা বেগম আহত হয়। আহতদের স্থানীয় ভাবে চিৎকিসা দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় নির্বাচনে কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীদের এজেন্টেদের বের করে দেয়া, কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ভোট দিতে ভোটারদের বাধ্য করা, বিএনপি সমর্থিত ভোটরদের মারপিটের অভিযোগ যাওয়া গেছে। এছাড়া শরণখোলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী খাঁন মতিয়ার রহমানের ভাইপো সেলিমকে পিটিয়ে আহত ও ধানসাগর ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাজাহান দুলালের মহিউদ্দিন বাদল ও বাবুকে মারপিট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শেয়ার