পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমি নিশ্চিত কিউইদের

kiwi
সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রথম দল হিসেবে টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলো নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানকে ২২ রানে হারিয়ে সুপার টেনে টানা তিন ম্যাচেই দুর্দান্ত জয় পেল ব্ল্যাক ক্যাপসরা। কিউইদের দেয়া ১৮১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান করতে সমর্থ হয় ২০০৯ আসরের চ্যাম্পিয়নরা।
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) মোহালির বিন্দ্রা স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘টু’র ম্যাচটিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক উইলিয়ামসন। টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে পাকিস্তানের জন্য এটি ছিল ‘মাস্ট উইন ম্যাচ’। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দিন ইনজুরির কারণে একাদশে ছিলেন না মোহাম্মদ হাফিজ ও পেসার ওয়াহাব রিয়াজ।
চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যে খেলতে নামা পাকিস্তানকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন শারজিল খান। ২৫ বলে ৪৭ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন এ বাঁহাতি ওপেনার। পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারেই আসে এক উইকেটে ৬৬ রান।

তবে ষষ্ঠ ওভারের মাথায় শারজিলের বিদায়ের পর আর কেউই দলের হাল ধরতে পারেননি। আরেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদ ৩০ (৩২ বলে) রান করে আউট হন। হাফিজের জায়গায় সুযোগ পাওয়া খালিদ লতিফ মাত্র ৩ রান করেই সাজঘরে ফেরেন।

‘বুমবুম’ আফ্রিদিও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ৯ বলে ১৯ রান করে ১৬তম ওভারে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন পাকিস্তান অধিনায়ক। জয়ের জন্য শেষ আশাটুকু ছিল ওমর আকমল ও শোয়েব মালিকের ব্যাটে। কিন্তু, ১৮তম ওভারে সমর্থকদের হতাশাই উপহার দেন আকমল (২৬ বলে ২৪)।

শেষদিকে, শোয়েব মালিকের ১৫ ও সরফরাজ আহমেদের ১১ রানের ইনিংস জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। নির্ধারিত ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় পাঁচ উইকেটে ১৫৮।

কিউইদের হয়ে দু’টি করে উইকেট নেন মিচেল স্যান্টনার ও অ্যাডাম মিলনি। বাকি উইকেটটি লাভ করেন ইশ শোধি।

এর আগে প্রথম ব্যাটিং করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারে ৫৫ রান তোলেন গাপটিল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। অষ্টম ওভারের মাথায় উইলিয়ামসনকে (১৭) ফিরিয়ে কিউইদের প্রথম উইকেটের পতন ঘটান মোহাম্মদ ইরফান।

পরের ওভারেই কলিন মুনরোকে (৭) শারজিল খানের ক্যাচে পরিণত করেন শহীদ আফ্রিদি। তবে অপর প্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখেন গাপটিল। ১৫তম ওভারের মাথায় মোহাম্মদ সামির বলে বোল্ড হওয়ার আগে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৪৮ বলে ৮০ রানের ‘বিস্ফোরক’ ইনিংস। তাতে ছিল ১০টি চার ও ৩টি ছক্কার মার।

লুক রনকিকে (১১) সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৩২ রান যোগ করেন রস টেইলর। ২৩ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন টেইলর। তার আগে ১৪ বলে ২১ রান করে আউট হন কোরি অ্যান্ডারসন। নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় ব্ল্যাক ক্যাপসরা।

পাকিস্তানের হয়ে দু’টি করে উইকেট নেন সামি ও আফ্রিদি। ইরফান চার ওভারে ৪৬ রানের বিনিময়ে একটি উইকেট লাভ করেন। চার ওভারে ৪১ রানের খরুচে বোলিংয়ে উইকেট শূন্য থাকেন দলের অন্যতম সেরা বোলার মোহাম্মদ আমির।

টি-টোয়েন্টিতে এ নিয়ে ১৫ বারের দেখায় সাতটিতে জিতল নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানের জয় আট ম্যাচে। বিশ্বকাপ মঞ্চের পাঁচবারের মুখোমুখি লড়াইয়েও ব্যবধান কমালো কিউইরা (৩-২)।

শেয়ার