ইউপি নির্বাচনে সারাদেশ আ’লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়

vote
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে সারাদেশে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। প্রথম ধাপে দেশের ৭১২টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত ৪৯১ টি ইউনিয়নের প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩৩৯ জন, বিএনপির ২৩ জন এবং বিদ্রোহী, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল থেকে ৫৩ জন নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া স্থগিত রয়েছে ২২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ফলাফল। আর এর আগেই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৫৪ জন প্রার্থী।
প্রাথমিক ফলাফলে জানা গেছে, যশোরের মণিরামপুরে ১১টিতে আ’লীগ, বিএনপি ৩ ও আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ২টিতে জয়লাভ করেছেন।
মোরেলগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টিতে আ’ লীগে প্রার্থীরা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। গতকালের নির্বাচনে ১৩টির মধ্যে ১০টিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বেসরকারি ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন।
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৭ জন ও বিএনপির ৩, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ২ ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ২ জন, বিএনপির একজন ও আওয়ামী লীগের ২ বিদ্রোহী প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ১২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৮ জন, বিএনপির ২, জাতীয় পার্টির একজন ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ১১ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ১০ জন ও ১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) স্বতন্ত্র প্রার্থী বেসরকারিভাবে চেয়াম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
রংপুরের পীরগাছা কল্যাণী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত।
বরগুনার আমতলী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। জেলার বামনার তিনটিতে বিদ্রোহী ও একটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ১টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ভোলার ৩৬টির মধ্যে ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ১৩ টিতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা (নৌকা প্রতীক) বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আরেকটিতে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হান্নান। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার পাঁচ নম্বর চরঈশ্বর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল হালিম আজাদ (আনারস প্রতীক) ৮ হাজার ৩০১ ভোট পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
ইউপি নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরে কমলনগর উপজেলার ৪টি ও রামগতি উপজেলার ২টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।
বরিশালের মোট ৭৪টির মধ্যে আ.লীগ ৪৪, জাতীয় পার্টি ১, ওয়ার্কার্স পার্টি ১, স্বতন্ত্র ১ জন নির্বাচিত হয়েছেন। নেত্রকোনার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে আ.লীগ ৪, স্বতন্ত্র ১, অন্যান্য ১ জন নির্বাচিত হয়েছেন। সিলেট ইউপি ৮টির মধ্যে আ.লীগ ২, বিএনপি ২, আ.লীগ বিদ্রোহী ৩, বিএনপির বিদ্রোহী ১। কুমিল্লায় ১৩টি ইউপির আ.লীগ ১০, বিএনপি ১, স্বতন্ত্র ১ জন নির্বাচিত হয়েছেন। একটি স্থগিত রয়েছে। সিরাজগঞ্জে মোট ৯টি ইউপির মধ্যেআ.লীগ ৬, বিএনপি ২, স্বতন্ত্র ১ জন নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার ৭১২ ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কিছু কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রে কেন্দ্রে চেয়ারম্যান, সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদের ভোট গণনাও করা হয়।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার সহকারী সচিব আশফাকুর রহমান বিকালে সাংবাদিকদের বলেছেন, অনিয়ম ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৪০টি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ হয়। সন্ধ্যার পর ইসির পক্ষ থেকে ৫৬টি কেন্দ্রে ভোট বন্ধের তথ্য জানানো হয়।
বিচ্ছিন্নভাবে এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ হলেও পুরো ইউনিয়নে ভোট স্থগিতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ মনে করছেন, প্রথম পর্বের নির্বাচনে ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়বে বলে মনে করছেন তারা।
দলীয় প্রতীকে প্রথম এই ইউপি ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, প্রথম পর্বের সাড়ে ৭ হাজার কেন্দ্রে সহিংসতা-সংঘর্ষ তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।
উৎসব আমেজে ভোট হয়েছে বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দাবি করলেও বিএনপি অভিযোগ করেছে, ভোট জালিয়াতি হয়েছে।
প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ভোট ছিল বলে ইউপি নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। তারা উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইন ধরেছে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে।

শেয়ার