যশোর বোর্ড কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় ॥ কেন্দ্র পরিচালনায় ‘অনৈতিক খরচ’ সুরাহা দাবি করেছেন ২১১সচিব

jessore education board
দেবু মল্লিক॥
আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কেন্দ্র সচিবদের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্র সচিবদের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসময় সচিবরা কেন্দ্র পরিচালনায় বোর্ডের গঠিত ভিজিলেন্স টিম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের প্রতিনিধিদের ‘সম্মানী’সহ বিভিন্ন ‘অনৈতিক খরচে’র সুরাহার দাবি জানান। সভায় আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় খুলনা বিভাগের ২১১ জন কেন্দ্র সচিব অংশ নেন।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন যশোর সরকারি এমএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিজানুর রহমান। এসময় বক্তব্য রাখেন সচিব ড. মোল্যা আমীর হোসেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধক চন্দ্র রুদ্র, কলেজ পরিদর্শক অমল কৃষ্ণ সাহা, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সমীর কুমার কুন্ডু প্রমুখ।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র প্রজেক্টরের মাধ্যমে কেন্দ্র সচিবদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষার মতো এইচএসসি পরীক্ষাতেও প্রথমে অবজেকটিভ প্রশ্নের পরীক্ষা নেওয়া হবে। দুই পরীক্ষার মাঝে বিরতি থাকবে ১০ মিনিট। পরীক্ষার্থীদের উপস্থিত হিসেবে আগের একটির পরিবর্তে স্বাক্ষর নিতে হবে দুইটি। বোর্ডে পাঠানোর সময় এক সাথে একাধিক বিষয়য়ের উত্তরপত্রের একটি বান্ডিল করা যাবে না। পৃথক-পৃথকভাবে পাঠাতে হবে। পরীক্ষা শুরুর এক ঘন্টার পর পরই কেন্দ্রের যাবতীয় তথ্য বোর্ডের অনলাইনে জানাতে হবে। এছাড়া ওএমআর ফর্মে পরীক্ষার্থীদের ভুল, বহিস্কার, অনুপস্থিত পরীক্ষার্থী সম্পর্কে তথ্য বোর্ডে পাঠানোর প্রক্রিয়াসহ কেন্দ্র সচিবদের করণীয় ১৮টি বিষয়ের বর্ণনা দেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
মতবিনিময় সভার এক পর্যায়ে উন্মুক্ত আলোচনায় নওয়াপাড়া কলেজের অধ্যক্ষসহ কয়েকজন কেন্দ্র সচিব বক্তব্য রাখেন। তারা পরীক্ষা চলাকালীন বোর্ডে গঠিত ভিজিলেন্স টিম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের প্রতিনিধিদের ‘সম্মানী’ নিয়ে বিড়ম্বনার কথা জানিয়ে তার সমাধান চান। এসব কমিটির সদস্যরা তাদের পরিচয় না দিয়েই কেন্দ্র ঢুকে পড়েন। এব্যাপারে বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মজিদ বলেন, ‘ব্যাঙের ছাতা’র মতো গড়ে ওঠা পরীক্ষা কেন্দ্রের কারণে আপনাদের সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যা নিয়ে আমরা আন্তঃবোর্ডের সভায় আলোচনা করেছি। সরকারের নতুন করে কোন কেন্দ্র নির্ধারণ না করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে জেলা প্রশাসকরা যত কেন্দ্র তত সম্মানী বিবেচনা করে অনেক সময় নতুন কেন্দ্র দাবি করছেন। আমরা এনিয়ে জেলা প্রশাসকদের সাথে কথা বলবো।’ এরপর কয়েকজন কেন্দ্র সচিব বিজি প্রেস থেকে আনা প্র্রশ্নের পরিবহন ব্যয় তাদের বহন করতে হয়-এটা আইনগতভাবে বৈধ কিনা তা জানতে চান। তবে এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান কেন্দ্র সচিবদের পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা এই টাকা দিতে চান কি না?’ এসময় এক যোগে কেন্দ্র সচিবরা ‘আমরা টাকা দিতে চাই না-এমন কথা বলছি না। আমরা আইনে কি আছে তাই জানতে চাই’ বলে হট্টোগোল শুরু করেন। তবে এই প্রশ্নের কোন জবাব শেষ পর্যন্ত ওই মতবিনিময় সভা থেকে মেলেনি।

শেয়ার