মরিয়া বাংলাদেশের ভারত পরীক্ষা

spo

সমাজের কথা ডেস্ক॥ আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদকে হারানোর ধাক্কা ক্রমশ কাটিয়ে উঠছে বাংলাদেশ। হঠাৎ ঝড়ে এলোমেলো হয়ে পড়া দলটি সব পেছনে ফেলে স্বরূপে ফিরতে উদগ্রীব। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গাণিতিকভাবে নিজেদের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে জয় ছাড়া আর আর কিছুই ভাবছে না মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
আজ বুধবার বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল ভারতের মুখোমুখি হবেন সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিমরা। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাসকিন ও সানির বোলিংয়ের ওপর আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশ দলের ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে তা স্পষ্ট বোঝা গেছে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে। আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে আসা মাশরাফি বিন মুর্তজার দলটির শরীরী ভাষায়ও ছিল ছন্দপতনের ছাপ।
অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি জানান, তারা সব ভাবনা বাইরে রেখেই মাঠে নামতে চেয়েছিলেন; অন্তত তাদের সেই চেষ্টা ছিল। ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষাই বলে দিয়েছে, সেদিন তারা ততটা পারেননি।
ভারত ম্যাচের আগে সহ-অধিনায়ক সাকিব স্পষ্ট করেই বলেছেন, যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন সময় এসেছে খেলায় মনোযোগ দেওয়ার। গাণিতিক সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখতে খেলায় মনোযোগ দিতে সতীর্থদের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
খেলায় মনোযোগ ফেরানো মাশরাফিদের জন্য জরুরিও। অধিনায়কের চোখের জল দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব, ভেতরের আগুনটা দেখেনি। সেই আগুন এবার দেখাতে চান সতীর্থরা। তার জন্য সবার আগে নিজেদের মাননুযায়ী ফিল্ডিংয়ের দিকে জোর দিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব।
অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে কয়েকটি ক্যাচ ছুটেছে চন্দিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যদের হাত থেকে। গ্রাউন্ড ফিল্ডিংও ভালো হয়নি এদিন। তার সঙ্গে যোগ হওয়া ছোট-ছোট ভুলগুলো জয় কেড়ে নিয়েছে বাংলাদেশের হাত থেকে।
তাসকিন, সানির অভাব নিঃসন্দেহে অনুভব করেছেন মাশরাফি। তবে আগের ম্যাচে তার জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল ছন্দে থাকা তামিম ইকবালের না থাকা। বিশেষ করে আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার রানে না থাকায় বিস্ফোরক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের অভাবটা আরও বেশি অনুভব করেছে বাংলাদেশ। পেটের পীড়া থেকে সেরে উঠছেন তামিম।
তিন-চারে সাব্বির রহমান, সাকিব নির্ভরতা যোগাচ্ছেন। ছয় নম্বরে অসাধারণ খেলে চলেছেন মাহমুদউল্লাহ। ফিনিশারের ভূমিকায় পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়া এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান পাঁচ নম্বরে খুব একটা সফলতা পাননি। নিজের চাওয়া অনুযায়ীই ছয় নম্বরে খেলছেন মাহমুদউল্লাহ। ভালো একটা শুরু পেলে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়ার সামর্থ্য তার আছে।
পাঁচ নম্বরে শুভাগত হোম চৌধুরীকে শেষ ম্যাচে প্রমোশন দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেটা খুব একটা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পাওয়া মুশফিকুর রহিমকেই দেখা যেতে পারে এই পজিশনে।
ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে জোর আরেকটু বাড়াতে নাসির হোসেনকে ফেরানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। কম্বিনেশনের জন্য দলের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডারকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখেন মাশরাফি।
অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে অ্যাডাম জামপা পরীক্ষায় ফেলেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যনদের। ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবিন্দ্র জাদেজারা তার চেয়েও বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারেন বুধবারের ম্যাচে।
সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে ১৮ বছর পর ভারতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে এশিয়া কাপের ফাইনালসহ দুই ম্যাচে হারা মাশরাফির দল এবার জিততে মরিয়া।
বিশ্বকাপে নিজেদের ছাপ রাখতে শেষ দুই ম্যাচে কিছু করতে চায় বাংলাদেশ। সানি-তাসকিনকে ছাড়াও তা করার সামর্থ্য আছে বাংলাদেশের। ভারতের পেসার আশিস নেহরাও তাই বিশ্বাস করেন। তিনি মনে করেন, মুস্তাফিজকে ফিরে পাওয়ায় বাংলাদেশের বোলিংয়ের খুব একটা হেরফের হয়নি।
শেষ চারে যেতে রান রেটের বড় একটা ভূমিকা থাকতে পারে। এখানটায় পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে পিছিয়ে আছে ভারত। বাংলাদেশ ম্যাচকে রান রেট বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে নিতে পারে দলটি।

ভারতকে প্রায় একাই টানছেন বিরাট কোহলি। রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, সুরেশ রায়নারা সেভাবে নিজের সেরা ছন্দে নেই। এই সুযোগ নিতে পারে বাংলাদেশ। তবে ভারতের সব ব্যাটসম্যানকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলেছেন সাকিব।
বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিং লাইনআপের যে কোনো একজন ম্যাচ বাংলাদেশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে থাকে। তাই সবাইকে নিয়ে সতর্ক। এর আগে পেস বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক জানান, বেঙ্গালুরুর ছোট মাঠে প্রত্যেক ব্যাটসম্যানকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা থাকা জরুরি।
ক্রিকেটারদের উজ্জ্বীবিত করতে দেশের জন্য খেলার চেয়ে আর কোনো মন্ত্র আছে বলে মনে করেন না সাকিব। এই মন্ত্রেই ভারত বধের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। একটি জয় পারে বাংলাদেশকে চেনা চেহারায় ফেরাতে। সেই জয়টি যত দ্রুত আসরে মাশরাফিদের জন্য তত ভালো।

শেয়ার