প্রথম ধাপের মধ্যদিয়ে ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু ॥ খুলনার ২৫২ ইউনিয়নে আজ ভোটের লড়াই

up nirbachon
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আজ খুলনা বিভাগের ২৫২ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরমধ্যে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। গতকালই জেলা নির্বাচন অফিস থেকে ভোট কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ। একই সাথে গতকাল রাত থেকে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসাররা স্ব-স্ব কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে মণিরামপুরে জামায়াত-বিএনপির সহিংসতার বিষয়টি মাথায় রেখে সেখানে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এদিকে, যশোরের মণিরামপুর ছাড়াও আজ কুষ্টিয়ার মিরপুরের ১১টি, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার দুইটি, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের পাঁচটি এবং খুলনার ৬৭ ইউনিয়নের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। খুলনার ৬৭ ইউনিয়নের মধ্যে বটিয়াঘাটা ও কয়রায় সাতটি করে, দিঘলিয়ার ছয়টি, পাইকগাছার ১০টি, দাকোপের ৯টি, রূপসার চারটি, ডুমুরিয়ার ১৪টি, ফুলতলার চারটি ও তেরখাদার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এছাড়া আজ ভোট গ্রহণ হবে বাগেরহাটের মংলার ছয়টিসহ ৭৪ ইউপিতে। যার মধ্যে রয়েছে রামপালের ১০টি, চিতলমারির সাতটি, ফকিরহাটের আটটি, মোল্লাহাটের ছয়টি, সদর উপজেলার ১০টি, কচুয়ার সাতটি, মড়েলগঞ্জের ১৬টি ও শরণখোলার চাটি ইউনিয়ন পরিষদ। একই সাথে নৌকা-ধানের শীষের লড়াই হবে সাতক্ষীরার আশাশুনির ১১টি, দেবহাটার পাঁচটি, কালিগঞ্জের ১২টি, সদরের ১৪টি, শ্যামনগরের ১২টি, কলারোয়ার ১২টি ও তালার ১২ ইউনিয়ন পরিষদে।
যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফার ইউপি নির্বাচনের তালিকায় মণিরামপুরের ১৭ ইউনিয়নই ছিল। মামলার কারণে পরে হরিহরনগর ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। তাই আজ মণিরামপুরের ১৬ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ছাড়াও চেয়ারম্যান পদে ৫৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতোমধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী উপকরণ পাঠানো হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার সৈয়দ আল এমরান জানান, ১৬টি ইউনিয়নের ভোট গ্রহণের জন্য ছয়জন রিটার্নিং অফিসার, ১৫০জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৮৩১জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ১৬৩২জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোমধ্যে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাহেরুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনকে বিবেচনায় ধরে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবেন। উপজেলার ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে তারা ১০০টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একজন এসআই’য়ের নেতৃত্বে ছয়জন পুলিশ সদস্য ও ১৭জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বাকি কেন্দ্রগুলোতে একজন পুলিশ সদস্য ও তিনজন আনসার সদস্য কম থাকবে। তিনি আরো জানান, এরবাইরে নির্বাচনী এলাকায় পুলিশের একাধিক মোবাইল টিম সার্বক্ষনিক তদারকি করবে। এছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাব, বিজিবির টহল থাকবে।
মণিরামপুরের ১৬ ইউনিয়নে ৫৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত নির্বাচনে এসব ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীরা বেশি জয় পেলেও এবার তাদের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াত প্রার্থীরা। জোটের শরীক দল হলেও বিএনপিকে তারা ছাড় দিতে নারাজ। নিবন্ধন বাতিল হওয়ার কারণে নির্বাচন কমিশন থেকে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা বরাদ্দ না দেওয়া হলেও উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একারণে ভোট সমিকরণে পিছিয়ে পড়েছে বিএনপি। বিপরীতে চারটি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও বাকি ইউনিয়নগুলোতে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
এদিকে, কয়েক দফায় মণিরামপুরে নির্বাচনী সহিংসতা হয়েছে। এরমধ্যে গত ১৬ মার্চ চালুয়াহাটি ইউনিয়নে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনসুর আলী ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া জামায়াত অধ্যুসিত কয়েকটি এলাকায় কয়েক দফা বোমা হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সংগতকারণেই নির্বাচনী মাঠ বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

শেয়ার