ঝিকরগাছার গৃহবধূকে ভারতে পাচার॥ স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

mamla
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামের এক গৃহবধূকে ভারতে পাচারের ঘটনায় তার স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই গৃহবধূর আদালতে দায়ের করা অভিযোগটি গতকাল কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
পাচারের শিকার ওই গৃহবধূর পিতার বাড়ি যশোর শহরতলীর শেখহাটি গ্রামে। ৩ বছর আগে ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামের রিপন হোসেনের ছেলে রুবেল হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তার একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। এরপর তার স্বামী রুবেল যৌতুকের জন্য শারীরিক মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। মেয়ের সুখের কথা ভেবে তার পিতা ৯০ হাজার টাকা দিয়ে জামাইকে একটি ইজিবাইক কিনে দেন। কিছু দিন যেতে না যেতে আবারো যৌতুক দাবিতে মারপিটের পর মেয়েসহ ওই গৃহবধূকে পিতার বাড়িতে তাড়িয়ে দেয়। গত বছরের ৩০ অক্টোবর মীমাংসার কথা বলে রুবেল তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। রাত এগারটার দিকে রুবেলের সহযোগী জাহানারা নামে এরেক মহিলাওই গৃহবধূর কাছ থেকে তার মেয়েকে নিয়ে নেয়। এরপর ওইদিন রাতে রুবেল, শাহানারা ও জাহানারা তিনজনে নদীপথে গৃহবধূ ওই গৃহবধূকে ভারতে নিয়ে যায়। ভারতের মুম্বাই শহরের ধামানগর এলাকায় নিয়ে শিবানী হালদার নামে এক পতিতা সর্দারনীর কাছে তাকে ৫০ হাজার রূপিতে বিক্রি করে দেয়। শিবানী হালদারের বাড়িতে আরো পাচার হওয়া ১০/১২জন নারী ছিল। ওই বাড়িতে নারীদের জোরপূর্বক দেহব্যবসা করানো হত। বিক্রি হওয়ার ৩/৪ দিন পর সেখানে থাকা সাতক্ষীরার ফুলজান নামে এক নারীর সাথে তার পরিচয় হয়। সে তাকে সকল ঘটনা খুলে বলে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা চায়। এরপর গত ১০ নভেম্বর তিনি ফুলজানের সাথে সেখান থেকে পালিয়ে যান। ১৩ নভেম্বর তারা সাতক্ষীরার আসেন। সেখান থেকে বাড়িতে এসে ২৫ নভেম্বর তিনি স্বামীসহ ৩জনকে অভিযুক্ত করে যশোরের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন মামলা করেন। গত রোববার আদালতের আদেশে সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে থানায় রেকর্ড করা হয়।

নিজস্ব

শেয়ার