রাত পোহালেই মণিরামপুরের ১৬ ইউনিয়নে নির্বাচন॥ প্রস্তুতি সম্পন্ন ॥ ভোট নির্বিঘœ করতে প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি

moni conte
মোতাহার হোসেন, মণিরামপুর॥ রাত পোহালেই মনিরামপুরের ১৬ ইউনিয়নে নির্বাচন। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের শেষ মুহুর্তের প্রচার প্রচারণাও শেষ হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছানোর কাজ শেষ হয়েছে। এদিকে এই ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠ করতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সিভিল প্রশাসনও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে এমন দাবি সংশ্লিষ্ট সুত্রের। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৫৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার সৈয়দ আল-এমরান জানান, ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে ৬ জন রিটার্নিং অফিসার, ১’শ ৫০জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৮’শ ৩১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১৬’শ ৬২ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাহেরুল ইসলাম জানান, ১৬ ইউনিয়নের ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০০ টি কেন্দ্র ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে যাতে ভোটাররা নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে সেজন্য প্রতি কেন্দ্রে ১জন এসআই’র নেতৃত্বে ৫ জন কনস্টেবল ও ১৪ জন আনসার ভিডিপির সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোতে ১জন কনস্টেবল ও ৩জন আনসার ভিডিপির সদস্য বেশি মোতায়েন থাকবে। প্রতি ইউনিয়নের ৩ কেন্দ্র মিলে পুলিশের একটি মোবাইল টিম সার্বক্ষনিক টহলে থাকবে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রতি ইউনিয়নে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান জানান, প্রতি ইউনিয়নে ১ জন নির্বাহি ম্যাজিষ্টেটের নেতৃত্বে বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ টহলে নিয়োজিত থাকবে। এদিকে উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের অধিকাংশ ইউনিয়নেই নৌকা ও ধানের শীষের লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
খোঁজখবর নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার ১ নং রোহিতা ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামায়াতের স্বতন্ত্র, ইশা ও স্বতন্ত্রসহ ৫ প্রার্থী থাকলেও মুল লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী আবু আনছার আলী সরদার ও ধানের শীষের প্রার্থী মিজানুর রহমানের মধ্যে। ২ নং কাশিম নগর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামায়াত, ইশার ৪ প্রার্থী থাকলেও মুল লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী স্বপন কুমার দাস ও ধানের শীষের প্রার্থী জিএম, আহাদ আলীর মধ্যে। ৩ নং ভোজগাতী ইউনিয়নে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন নৌকার প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক, জামায়াতের প্রার্থী হুমায়ুন কবির মুক্তা ও বিএনপির প্রার্থী কাওছার আলী। ৪ নং ঢাকুরিয়া ইউনিয়নেও মুল লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী দূর্গাপদ সিংহ, জামায়াতের প্রার্থী মাও. দেলোয়ার হোসেন ও ধানের শীষের প্রার্থী জিএম মিজানুর রহমানের মধ্যে। ৫ নং হরিদাসকাটি ইউনিয়নে মুল লড়াই হবে আওয়ামীলীগের বিপদ ভঞ্জন পাঁড়ে ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী স্বদেশ সরকারের মধ্যে। ৬ নং মনিরামপুর সদর ইউনিয়নে লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী এয়াকুব আলী গাজী ও ধানের শিষের প্রার্থী নিস্তার ফারুকের মধ্যে। ৭ নং খেদাপাড়া ইউনিয়নে মুল লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী আব্দুল আলীম জিন্নাহ ও ধানের শীষের প্রার্থী শামছুজ্জামান (শান্ত) এর মধ্যে। ৯ নং ঝাঁপা ইউনিয়নে মুল লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী শামছুল আলম (মন্টু) ও ধানের শীষের প্রার্থী আলাউদ্দীন আহম্মেদের। ১০ নং মশ্মিমনগর ইউনিয়নে লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী আবুল হোসেন ও ধানের শীষের প্রার্থী এ্যাডভোকেট আব্দুল গফুরের মধ্যে। ১১ নং চালুয়াহাটি ইউনিয়নে মুল লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী আবুল ইসলাম ও ধানের শীষের প্রার্থী বজলুর রহমানের মধ্যে। ১২ নং শ্যামকুড় ইউনিয়নে লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি ও ধানের শীষের প্রার্থী মশিউর রহমানের মধ্যে। ১৩ নং খানপুর ইউনিয়নে মুল লড়াই হবে আওয়ামীলীগের প্রার্থী গাজী মোহাম্মদ ও ধানের শীষের প্রার্থী এ্যাড. মুজিবুর রহমানের মধ্যে। তবে এ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী গাজী মোহাম্মদ জয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন বলে স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে। ১৪ নং দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নেও জয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী ৭ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান সরদার বাহাদুর আলী। ১৫ নং কুলটিয়া ইউনিয়নে মুল লড়াই হল আওয়ামীলীগের প্রার্থী শেখর চন্দ্র রায় ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী পরিতোষ বিশ্বাসের মধ্যে। ১৬ নং নেহালপুর ইউনিয়নে মুল লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী এমএম ফারুক হুসাইন ও ধানের শীষের প্রার্থী নজমুস সাদ’ত এর মধ্যে। ১৭ নং মনোহরপুর ইউনিয়নে মুল লড়াই হবে নৌকার প্রার্থী মশিয়ূর রহমান ও ধানের শীষের প্রার্থী আক্তার ফারুক মিন্টুর মধ্যে। ভোট বিশ্লেষকদের ধারনা ১১ ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী থাকায় ওই ইউনিয়ন গুলোতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন নৌকার মাঝিরা। তবে আগামীকাল ২২ মার্চ ইউপি নির্বাচনে জয়ের মালা পরতে যাচ্ছেন, তা দেখতে আর মাত্র ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে সংশ্লিষ্ঠ প্রার্থীসহ তাদের কর্মী সমর্থকদের।

শেয়ার