যশোরে হাসপাতাল থেকে হাতকড়া নিয়ে পালালো এক আসামি ॥ অবহেলার অভিযোগে ৩ পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

police
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে চুরির চেষ্টাকালে গণপিটুনিতে আহত মাসুম (২৮) হোসেন নামে এক আসামি পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় হ্যান্ডকাপসহ পালিয়ে গেছে। রোববার ভোর রাতে তিনি পালিয়ে যান। পলাতক আসামি মাসুম হোসেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের পুকুরজানা গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। তার পাহারার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ওই তিন সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তরা। পুলিশ বাদী হয়ে পলাতক আসামি মাসুমের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছে।
কোতোয়ালি থানার এএসআই নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শনিবার বিকেলে পুরাতন কসবা এলাকায় চুরির অভিযোগে মাসুম হোসেনকে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। এখবর পেয়ে সেখান থেকে আহতবস্থায় মাসুদকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে রাতে মাসুমের পাহারায় ছিলেন পুলিশের নায়েক (৩৫৩) জারফিন আল, কনস্টেবল (২০১৮) আব্দুল্লাহ আল মামুন (২০১৬) রিপন সরকার। কিন্তু গভীর রাতে ওই তিন পুলিশ সদস্য ঘুমিয়ে যান বলে জানা গেছে। এ সুযোগে মাসুম পালিয়ে যায়। রাত তিন থেকে চারটার দিকে কৌশলে মাসুম তার হ্যান্ডকাপের দড়ি কেটে পালিয়ে যান।
এব্যাপারে হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডের ইনচার্জ রহিমা খাতুন জানান, রাত তিনটার পরে দায়িত্বরত নার্স হাসিনা আক্তার মাসুমকে না পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশদের জানান। রোববার হাসপাতালে ডিউটি ইনচার্জ নায়েক জারফিন বাদী হয়ে পলাতক মাসুমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী নায়েক জারফিন আলী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, হাসপাতালের তিনতলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সুমন নামে এক অস্ত্র মামলার আসামি পুলিশ প্রহরায় ছিল। আবার নিচতলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মাসুম নামে আরেক আসামিকে ভর্তি করা হয়। রাতে দু’টি ওয়ার্ডে এক নায়েক ও দুই কনস্টেবলের ডিউটি করতে হয়েছে। নায়েক জারফিন আলী তিনতলায় এবং ওই দুই কনস্টেবলকে নিচতলায় মাসুমের কাছে ডিউটি করতে দেয়া হয়। রাত সোয়া ৪টার দিকে তিনি নিচতলায় এসে দেখেন আসামি মাসুম নেই। পরে খোঁজ খবর নিয়ে যানতে পরেন হাতকড়া পরা অবস্থায় সে পালিয়েছে।
এব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন বলেন, মাসুম রাত পৌনে চারটার দিকে তার হ্যান্ডকাপের সঙ্গে বাঁধা দড়ি কেটে পালিয়েছে। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) ভাস্কর সাহা জানিয়েছেন, পলাতক মাসুমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে আটকের জন্য বিভিন্নস্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো জানিয়েছেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকারী তিন পুলিশ সদস্যে বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শেয়ার