যশোরে টেলিমেডিসিন সেবা বন্ধ ॥ গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে কার্যক্রম ॥ ‘থেমে গেছে’ বাড়ি বসে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ

teli medechin udbo
এস হাসমী সাজু॥
ডিজিটাল যশোরে চালু হওয়া টেলিমেডিসিন সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১৩ সালে জেলার চারটি সেন্টার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা প্রদান শুরু হলেও ৭/৮ মাস পরেই মুখ থুবড়ে পড়ে কার্যক্রম। আর এর মধ্যে দিয়ে গ্রামের মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ‘সুযোগ’ থেমে গেছে। আর এই সুযোগ সৃষ্টি করতে বন্ধ কার্যক্রম আপাতত চালুর চিন্তা নেই বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর।
কালেক্টরেট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শাখা সূত্র মতে, স্কাইপের মাধ্যমে প্রান্তিক ও দরিদ্র গোষ্ঠীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা ও পরামর্শের জন্য ২০১৩ সালে ২১ সেপ্টেম্বর দেশের মধ্যে প্রথম টেলিমেডিসিন সেন্টার চালু হয়। যশোরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানের উদ্যোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রাজধানীর আয়েশা মেমোরিয়াল স্পেশালাইজড (প্রা.) হসপিটালের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সদর উপজেলার চাঁচড়া, ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ও মণিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র টেলিমেডিসিন সেন্টারের কার্যক্রম চালু হয়। তখন এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি সচিব নজরুল ইসলাম খান। যশোরের প্রত্যান্ত অঞ্চলের মানুষের উন্নত স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে দেওয়া হতো টেলিমেডিসিন সেবা। সেবা ও পরামর্শ দিতেন রাজধানীর আয়েশা মেমোরিয়াল স্পেশালাইজড (প্রা.) হসপিটালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা স্কাইপের মাধ্যমে কথা বলে রোগীদের পরামর্শ ও সেবা দিতেন। তবে রোগীর প্রেসার ও অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আলাদা মেশিন ব্যবহার করা হতো। কিন্তু যশোরের সেই সময়ের জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ার পর এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে টেলিমেডিসিন সেন্টার চালু হওয়ার পর থেকে মোট ১৮ জন রোগী এই সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে মণিরামপুরের মশ্মিনগর থেকে নিয়েছেন তিনজন রোগী। এমনটি জানিয়ে ওই কেন্দ্রের উদ্যোক্তা জিএম মুকুল বলেন, ‘ডাইকট মেশিন’ নামক যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে গেলে মেরামত করার জন্য আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালের লোকজন নিয়ে যায়। এরপর সেই মেশিনটি দেয়নি। চালুও করা হয়নি। একই কথা বলেছেন ঝিকরগাছার বাঁকড়া ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা রাফিজা খাতুন। তিনি বলেন, ‘মেশিন’টি নষ্ট হওয়ার পর থেকে টেলিমেডিসিন সেন্টার বন্ধ রয়েছে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পারভেজ হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি গত বছর ফেব্রুয়ারিতে যোগদান করে দেখেছি টেলিমেডিসিন সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কী কারণে বন্ধ রয়েছে তা জানতে তার অধীনস্ত কালেক্টরেট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শাখা’র সেই সময়ের দায়িত্বরত সহকারী প্রোগ্রামার মোতাহার হোসেনের সাথে যোগাযোগে পরামর্শ দেন।
এবিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের বলেন, আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালের সাপোর্টে টেলিমেডিসিন সেবা চালু করা হয়েছিলো। তারা কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। ফলে চালু হওয়া সেন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে। চালু করার উদ্যোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুনরায় কার্যক্রম চালুর চিন্তা নেই।

শেয়ার