যশোরে পতিতাপল্লীতে বোমা মেরে যৌনকর্মীকে নিয়ে পালালো যুবক ॥ আহত ৩, কথিত প্রেমিকসহ আটক ৩

potita
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর শহরের বাবুবাজার পতিতা পল্লীতে শুক্রবার দুপুরে বোমা বিস্ফোরণ করে অন্তরা নামে এক যৌনকর্মীকে নিয়ে গেছে কয়েকজন যুবক। দিদার নামে এক যুবকের সাথে অন্তরার ‘প্রেমে’র জের ধরে তাকে নিয়ে গেছে বলে প্রশাসন ও যৌনকর্মীরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন। এসময় বিস্ফোরিত বোমার স্প্রিন্টারে চিংড়ি, মেঘলা ও বৈশাখী নামে তিন যৌনকর্মী আহত হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তিনজনকে থানায় নিয়ে গেছে। তারা হলেন, যশোর শহরের চৌরাস্তা বস্তাপট্টির ইসহাকের ছেলে মতলেব হোসেন, খালধার রোডের রুবেল হোসেন ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের আমানত সরদারের ছেলে দিদার হোসেন।
বাবুবাজার পতিতা পল্লীর সুমি খাতুন জানান, তার ঘরে নড়াইলের এক মেয়ে যৌন কর্মী হিসেবে প্রায় এক বছর যাবৎ কাজ করেন। পতিতা পল্লীর ওই গলির সামনে সোহেলের মুদি দোকানে দিদার নামে এক যুবক সেখানে বেশ কিছু দিন ধরে আসা-যাওয়া করতেন। এক পর্যায়ে দিদারের সাথে যৌনকর্মী অন্তরার ‘প্রেমে’র সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের জের ধরে অন্তরাকে নিয়ে ‘অজানার’ উদ্দেশ্যে চলে যাওয়ার জন্য দিদার নানা কৌশল আটছিলো বলে তারা জানতে পেরেছেন।
এদিকে, এই কাজে দিদারকে দোকানদার সোহেল নানাভাবে সহযোগিতা করে আসছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার আগে দোকান খুলে সোহেল ব্যবসা করলেও একাধিকবার দোকান বন্ধ করে বিভিন্নস্থানে চলে যায়। এক পর্যায়ে অপহরণ ঘটনার কয়েক মিনিট আগে সোহেল দোকান বন্ধ করে বাইরে অপেক্ষা করে। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে দিদার ও সোহেলসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬জন যুবক এসে ওই গলির মধ্যে থেকে অন্তরাকে অপহরণ করে নেয়। এসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তার একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতংকের সৃষ্টি করে। কিন্তু ওই বোমার স্প্রিন্টারে ওই পতিতা পল্লীর চিংড়ি, মেঘলা ও বৈশাখী নামে তিন যৌনকর্মী আহত হন। এর মধ্যে চিংড়ি ও মেঘলাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর বৈশাখী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এব্যাপারে অন্তরার ঘর মালিক সুমি খাতুন বাদী হয়ে দিদার ও সোহেলের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই মামলায় দিদারকে আটক এবং রুবেল ও মতলেব হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখা হয়েছে।
স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, ওই গলির সামনে বেশ কিছু দিন ধরে বখাটে যুবকেরা আসে এবং অবস্থান করে। সর্দারনী পান্নার স্বামী মহাসিন নামে এক ব্যক্তি ওই যুবকদের বিভিন্ন অপকর্মে শেল্টার দিয়ে থাকেন। তবে মহাসিন এ অভিযোগটি অস্বীকার করেন। কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই বিধান কুমার বিশ্বাস জানান, ঝালাইপট্টি পতিতা পল্লীতে বিস্ফোরিত বোমার কিছু আলাম জব্দ করা হয়েছে।
এব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত শ্যামলাল নাথ জানান, বোমা বিস্ফোরণ ও অপহরণের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

শেয়ার