১২৫ বছর ধরে আলো ছড়াচ্ছে যশোর সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন ॥ আজ ও আগামীকাল শিক্ষার্থীদের দুই দিনের মিলনমেলা

sommiloni school
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ১২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে যশোর সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন। দীর্ঘ এই পথচলায় বিদ্যাপিঠটি অসংখ্য গুণীজনের জন্ম দিয়েছে। এখানকার প্রাক্তন ছাত্রদের অনেকে গবেষক, উপন্যাসিক, সাহিত্যিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সম্পাদক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, গীতিকার, রাজনীতিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ সমাজ বির্নিমাণে ভূমিকা রাখেন। নক্ষত্র সেইসব ছাত্রদের মিলনমেলা বসতে যাচ্ছে ১৯ ও ২০ মার্চ। ১২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানকে ঘিরে তাদের পদচারণায় মুখরিত হবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
১৮৮৯ সালে যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ায় রায় বাহাদুর যদুনাথ মজুমদার প্রতিষ্ঠা করেন সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা প্রসারে ভূমিকা রেখে চলেছে। প্রায় একশ ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করা সেদিনের সেই ‘শিশু’ বিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে আপন মহিমায়। যার শিক্ষাদীক্ষায় আলোকিত হয়ে কেউ ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। হয়েছেন ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র। আবার কেউ গবেষণা, উপন্যাস, সাহিত্যে ভূমিকা রেখে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে উন্নতস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন। অনেকে শিক্ষকতা করে জাতি ও সমাজ নির্মাণে রেখেছেন অনন্য ভূমিকা। এরকম প্রখ্যাত উপন্যাসিক নিমাই ভট্টাচার্য্য, ডা. সূর্য্য কুমার মজুমদার, ডা. এহিয়া হোসেনের মতো ‘জন্মদাতা’ বিদ্যালয়টি আজ তাই একটি ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে নবপ্রজন্মকে জানাতে এবং প্রিয় প্রতিষ্ঠানের আকাশে একটু স্বস্তির শ্বাস ফেলতে একত্রিত হতে যাচ্ছে প্রাক্তন-বর্তমান ছাত্ররা। তারা ১২৫ বছর পূর্তিতে আয়োজন করেছে দুই দিনের উৎসব। এ উৎসব স্মরণীয় রাখতে ‘শুভ্র সমুজ্জ্বল’ নামে একটি স্মরণিকাও বের করা হয়েছে। এতে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীসহ বরেণ্য লেখকদের তথ্যবহুল লেখা রয়েছে।
এদিকে, দুই দিনের এই উৎসবকে ঘিরে নতুনরূপ পেয়েছে যশোর সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন। প্রতিষ্ঠানটি আল্পনা দিয়ে ভরে তোলা হয়েছে। সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। শহরের চৌরাস্তা থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে আলোকসজ্জা করে অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।
উদযাপন পর্ষদের আহবায়ক মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনীর বৃহত্তর যশোরের উপ-প্রধান রবিউল আলম বলেন, ১৯৮১ সালের ব্যাচ পুনঃমির্লনী করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের ১২৫ বছর উদযাপনের বিষয়টি সামনে আসে। এসময় থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়। উৎসবটি প্রাণবন্ত করতে ১৩টি উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উদযাপন পর্ষদের সদস্য সচিব হিমাদ্রি সাহা মনি জানান, অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ১৪ শিক্ষককে সম্মাননা জানানো হবে। এছাড়া প্রাক্তন শিক্ষার্থী যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং সমাজে নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত অনেকে স্মৃতিচারণ করবেন।
এদিকে, দুই দিনের এই উৎসবে রায় বাহাদুর যদুনাথ মজুমদারের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘ রায় বাহাদুর যদুনাথ মেলা’ অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে মেলা কমিটির আহবায়ক ফারাজী আহম্মদ সাঈদ বুলবুল জানান, রায় বাহাদুর যদুনাথ শুধু সম্মিলনি ইনস্টিটিউশনের প্রতিষ্ঠাতাই নন, তিনি আধুনিক যশোর গড়ার রূপকারও। এই মেলায় তার ও স্বজনদের দুর্লভ আলোকচিত্র এবং যশোর ও লোহাগড়ার তার কৃতির তথ্য উপস্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে তাকে যশোরবাসী নতুন করে আবিস্কার করতে পারবেন।
অন্যদিকে, উৎসবের প্রথম দিনে প্রধান অতিথি থাকবেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রখ্যাত উপন্যাসিক নিমাই ভট্টাচার্য্য, ডা. সূর্য্য কুমার মজুমদার ও ডা. এহিয়া হোসেন। দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রাক্তন ছাত্র প্রফেসর অসিত বরণ ঘোষ। এ অনুষ্ঠানে সম্মাননা জানানো হবে প্রাক্তন শিক্ষক প্রবোধ চন্দ্র সাহা, তারাপদ দাস, মনুজ কান্ত মজুমদার, রবিউল হোসেন, দাস দুলাল হরি, আব্দুল্লাহ খান হামদু, মিজানুর রহমান, সৈয়দ হারিস উদ্দীন, জাহাঙ্গীর আলী, জগৎ নারায়ণ ঘোষ, মোজাহার আলী, সাহিদা চৌধুরী, মুন্সি আবদুর রফিক ও জীবন কুমার চক্রবর্তী।

শেয়ার