ষড়যন্ত্র থেমে নেই : প্রধানমন্ত্রী

has
সমাজের কথা ডেস্ক॥ দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র থেমে নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ঊষালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ষড়যন্ত্র যে থেমে গেছে তা কিন্তু নয়।
শুক্রবার (১৮ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতার ৯৭তম জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
পদ্মাসেতু নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততার শক্তি দিয়ে আমরা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছি। সততাই শক্তি। সততা থাকলে জোর গলায় কথা বলা যায়। যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবেলা করা যায়।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমানের সরকারকে ‘অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী’ ও ‘ডুপ্লিকেট পাকিস্তানি সরকার’ হিসেবে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এ সময় একদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়। অন্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় বসানো হয়। যার ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়াও স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিল, পতাকা দিয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এবং বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখনকার দিনে বিশ্বে দুটি ভাগ ছিল। যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন করেনি, পাকিস্তানি হানাদারদের সমর্থন করেছিল তাদেরও তো ষড়যন্ত্র ছিল। তাদের কথা কেউ শুনলো না, দেশ স্বাধীন হয়ে গেলো, পাকিস্তান পরাজিত হয়ে গেলো।
বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এদেশ এগিয়ে যাক এটি তারা চায় না। পরাজিত শক্তি তাদের সেই পাকিস্তানি প্রভুদের তারা ভুলতেই পারে না।
বিগত সময়ে জনগণ বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনে সমর্থন দেয়নি মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মানুষ আমাদের নির্বাচিত করে ক্ষমতায় এনেছে বলেই আজ আমরা দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারছি। খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের সফলতা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, একটি লক্ষ্যকে স্থির করে সারা জীবন যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন সে ত্যাগ স্বীকারের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, তার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। মানুষের মুখে হাসি ফোটানো আজকে আমাদের দায়িত্ব। তাই আমাদের সব ধরনের চেষ্টা বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।
জনগণের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- আমি জনগণেরই একজন, আমার জন্ম দিনই কি আর মৃত্যু দিনই কি। আমি আমার জীবন জনগণের জন্য উৎসর্গ করেছি।
বঙ্গবন্ধুর সাহস, দৃঢ়চেতা মনোভাব ও লক্ষ্যে অবিচল থাকার কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- আমি বাঙালি, আমি মুসলমান। বাঙালি একবার মরে বার বার মরে না।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিধস্ত দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে দেখি সব কাজই জাতির পিতা শুরু করে গিয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলী সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, সতীশ চন্দ্র রায়, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মেসবাহউদ্দিন সিরাজ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক কামরুল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।

শেয়ার