বিজয় মানেই ‘আচ্ছা দিন’ নয়!

indian railways

সমাজের কথা ডেস্ক॥ নির্বাচনে নিজ দলের নিরঙ্কুশ বিজয় মানেই ‘আচ্ছা দিন’ যে নয় তা বিজেপি কর্মী ভিনোদ সামারিয়া ভালোই বুঝতে পারছেন। তিনি এখন এমন পরিস্থিতিতে পড়েছন যে আত্মহত্যা করার হুমকি দিচ্ছেন।
নিজ দল বিজেপিকে নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে সহায়তা করতে গিয়ে তিনি লাখ লাখ টাকা ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
আগ্রা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে ফতেহপুর সিক্রিতে ভিনোদের বাড়ি। তিনি জেলা বিজেপির সভাপতি।

দুই বছর আগে দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির পক্ষে প্রচারণা চালাতে দল থেকে ফতেহপুর থেকে লক্ষ্ণেী পর্যন্ত ট্রেন মিছিল আয়োজন করার দায়িত্ব পান তিনি। দায়িত্ব পেয়ে আহ্বালাদিত ভিনোদ সবকিছু খুব ভালভাবে সারেন।
তিনি ১৯-বগির একটি ট্রেন ভাড়া করেন। ১ মার্চ, ২০১৪ থেকে বিজেপি কর্মী ভর্তি ট্রেনটি ফতেহপুর থেকে লক্ষ্ণেীর দিকে যাত্রা শুরু করে। দুইদিনের মধ্যেই ট্রেন মিছিলটি সবার নজরকাড়ে।
১১ মার্চ চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হন ভিনোদ। পরিশোধ না করা একটি বিলের রশিদ তার নামে তার বাড়িতে পৌঁছায়। বুকিং তার নামে হওয়ায় রেলওয়ে তাকে ১২ লাখ রুপির একটি বিল পরিশোধ করার নোটিশ দেয়।
“আমি (বিজেপির) রাজ্য ইউনিটের সবার সঙ্গে কথা বলেছি, আর তারা আমাকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু এটি আমি এবং আমার বিপক্ষে রেলওয়েই রয়ে গেছে। ঋণের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন। আমিও কি তাই করবো?” এনডিটিভিকে বলেন ভিনোদ।
নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে দুই বছর হয়ে গেল, মোদি এখন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু কেউ টাকা পরিশোধ করেনি। গত দুই বছর ধরে বিভাগীয় রেলওয়ে দপ্তর থেকে টাকা পরিশোধের তাগিদ দেওয়া একের পর এক নোটিশ পাচ্ছেন ভিনোদ।
বারবার দলের নেতৃবৃন্দের কাছে ধর্না দিয়েও কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না তিনি।
রেলওয়ে জানিয়েছে, ট্রেন বুকিংয়ের জন্য বিজেপি ১২ লাখ রুপি পরিশোধ করেছে এবং সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে আরো প্রায় ছয় লাখ দিয়েছে। কিন্তু আসা-যাওয়ার পথে চারটি স্টেশনে ট্রেনটি একবার করে দাঁড়ানোর জন্য বিলের আরো ১২ লাখ রুপি বিনোদকে দিতে হবে।
উত্তর প্রদেশ বিজেপির সভাপতি লক্ষীকান্ত বাজপেয়ী বলেছেন, “ট্রেনের ওই প্রচারণা শেষ হওয়ার পর বিল নিয়ে রেলওয়ের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছে। সঠিক বিলের বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপি সব পাওনা পরিশোধ করে দিবে।”

শেয়ার