যশোর সদরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন॥ নৌকা-ধানের শীষের লড়াইয়ে প্রচারণায় এগিয়ে আ’লীগ প্রার্থীরা

procarona
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ পৌরসভার পর জাতীয় নির্বাচনের মতো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও নৌকা-ধানের শীষের লড়াই শুরু হয়েছে। এই প্রথম বারের মতো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। তাই বিগত নির্বাচনে অনেকে ব্যক্তি গ্রহণযোগ্যতায় নির্বাচিত হলেও এবার জয়-পরাজয়ে নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে দলীয় সংগঠনিক ভিত্তি। সারাদেশের মতো যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ‘আগুন সন্ত্রাস’ আর সহিংসতার মামলায় জর্জরিত বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেকটাই অসংগঠিত। বিপরীতে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ। সংগত কারণেই যশোর সদরে জয়ের সম্ভাবনার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।
সর্বশেষ যশোরের ছয় পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ছয় প্রার্থীই জয়ী হন। যশোর পৌরসভায় নৌকার প্রার্থী জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু ৬৩ হাজার ৬৮ ভোট পেয়ে পরাজিত করেন বিএনপির মারুফুল ইসলামকে। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি ভোট পেয়েছিলেন ২১ হাজার ৪৪২টি। মজবুত সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু তিনগুন বেশি ভোট পেয়ে ধানের শীষ প্রতীকের মারুফুল ইসলাকে পরাজিত করেন। শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে আগামী ৩১ মার্চ সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে চেয়ারম্যান পদে তাই এগিয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে ১৫ ইউনিয়নের তিনটি থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী। বাকি ১২ ইউনিয়নেও বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ শেষেও তেমন একটা প্রচারণা শুরু করতে পারেননি। বিপরীতে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই এলালায় জোর প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। স্থাপন করেছেন নির্বাচনী কার্যালয়। একই সাথে তারা প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার এক দিনের মধ্যেই গ্রামে গ্রামে পোস্টার টানিয়ে দিয়েছেন। জোরছে চালাচ্ছেন মাইকিংয়ের কাজ। যদিও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু দাবি করেছেন তাদের প্রার্থীদের প্রচারণায় নামতে দেওয়া হচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই অভিযোগ করেন। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বিএনপির এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেছেন, আন্দোলনের নামে গাড়িতে আগুন আর বোমা মেরে নিরাপরাধ সাধারণ মানুষ হত্যা করে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিএনপি। তাদের মাঠ পর্যায়ে কোন কর্মী নেই। এজন্য তাদের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বাকিদের তেমন প্রচারণাও নেই। রাজনৈতিক কারণেই বিএনপি এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে।

শেয়ার