ব্যাটে-বলে পেরে উঠল না বাংলাদেশ

pakis
সমাজের কথা ডেস্ক॥ ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্সের ২২ গজ সত্যিকার অর্থেই ছিল যেন ব্যাটিং স্বর্গ। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা পারলেন না স্বর্গসুখটা খুঁজে নিতে। সুপার টেনের শুরুতেই সঙ্গী তাই পাকিস্তানের কাছে বড় হার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টেনে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৫৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২০১ রান তুলেছিল পাকিস্তান। বোলিং ব্যর্থতার দিনে দারুণ কিছু উপহার দিতে পারল না বাংলাদেশের ব্যাটিংও, ৬ উইকেট হারিয়ে তারা তুলতে পারে ১৪৬।
শহিদ আফ্রিদির চেয়ে কম ম্যাচ খেলে টি-টোয়েন্টিতে ১ হাজার রান ও ৫০ উইকেটের ‘ডাবল’ স্পর্শ করেছেন সাকিব আল হাসান। করেছেন অর্ধশতকও। তবে দিনটি ছিল আফ্রিদিরই। বহুদিন পর ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে পেরেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক, পরে ২ উইকেট নিয়ে জিতিয়েছেন দলকে।
জিততে হলে নিজেদের ছাড়িয়ে যেতে হতো তামিম-সৌম্যদের। ১৬৪ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই বাংলাদেশের। কিন্তু রাত তাড়ায় কখনও ম্যাচেই ছিল না বাংলাদেশ, জাগাতে পারেনি কোনো সম্ভাবনাই।
শুরুটাই ছিল হোঁচট খেয়ে। প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ আমিরের বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে বোল্ড সৌম্য সরকার (০)। সৌম্য অবশ্য বেশি কিছুদিনই হলো রানে নেই। ধাক্কাটা তাই হয়ত খুব বড় ছিল না। তবে দলের ইনিংসটা গতিই পেল না একবারের জন্যও।
ব্যাটিং উইকেটেও পাকিস্তানের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং বেধে রাখে তামিম-সাব্বিরদের। দুইশ’ রান তাড়ায় প্রথম ৫ ওভারেই অন্তত ৪৫-৫০ রান প্রয়োজন ছিল, কিন্তু বাংলাদেশ তুলতে পারে মোটে ৩৩।
পাওয়ার প্লে ৬ ওভার শেষে তামিমের রান ছিল ১৪ বলে ১৫। সাব্বির অবশ্য দারুণ খেলছিলেন। কিন্তু আফ্রিদির ভেতরে ঢোকা বল বুঝতে না পেরে হয়ে যান বোল্ড (১৯ বলে ২৫)।
শুরু থেকেই প্রয়োজনী রানরেটে পিছিয়ে পড়তে থাকা বাংলাদেশের ভরসা হয়ে ছিলেন তামিম। আফ্রিদিকে ছক্কায় স্বাগত জানানোর পর চোখধাঁধানো এক শটে গ্যালারিতে পাঠান শোয়েব মালিককে। তবে তামিমকেও ফিরিয়ে দেন আফ্রিদি (২০ বলে ২৪)।
এরপর শুধু ছিল ব্যবধান কমানোর লড়াই। একটি-দুটি চার, পাশাপাশি নিয়মিত উইকেটের পতন। সুসংবাদ বলতে সাকিবের রান পাওয়া। আগের ম্যাচেই ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ওমানের বিপক্ষে ছোটো কিন্তু কার্যকর একটি ইনিংস খেলে। এ দিন অনেকটা সময় উইকেটে কাটালেন, শেষ ওভারে ওয়াহাব রিয়াজকে ছক্কার পর অর্ধশত করলেন ৪০ বলে।
সাকিবের এটি ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ অধর্শত, সবশেষটি করেছিলেন ১৪ ইনিংস আগে, পাকিস্তানের বিপক্ষেই গত এপ্রিলে।
শেষ দিকে মাশরাফি করলেন ৯ বলে ১৫। তাতেও পরাজয়ের ব্যবধানটা বেশ বড়ই রয়ে গেল।
ইডেনের উইকেট নিখাদ ব্যাটিং স্বর্গ। ২২ গজের নানা জায়গায় বিচ্ছিন্ন ভাবে ঘাসের ছোঁয়া ছিল। তবে তাতে বল ব্যাটে এসেছে দারুণভাবে। পেস-স্পিন কোনোকিছুর জন্যই ছিল না তেমন কোনো সহায়তা। টস জয়টা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে আবারও ভাগ্যবিমুখ মাশরাফি, টস হারলেন টানা ৬ ম্যাচ। নিষ্প্রাণ উইকেট আর বাংলাদেশের এলোমেলো বোলিংয়ের ফায়দা পুরোপুরিই তুলল পাকিস্তান।
পাকিস্তানের ওপেনাররা অভিপ্রায় বুঝিয়ে দেন শুরু থেকেই। তাসকিনকে দারুণ এক কাভার ড্রাইভে চার মেরে শুরু করেন শেহজাদ। পরের ওভারেই আল আমিনকে দুই ছক্কা, এক চারে ১৮ রান নেন শারজিল খান।
তৃতীয় ওভারেই আক্রমণে স্পিন আনেন মাশরাফি। তাতে সাফল্যও মেলে। নিচু হওয়া স্কিড করা বলে ডাউন দা উইকেটে এসে বোল্ড শারজিল (১০ বলে ১৮)। কদিন আগে এশিয়া কাপেও এই বাঁহাতি ওপেনারকে বোল্ড করেছিলেন সানি।
উইকেট নিয়েও বাধ দেওয়া যায়নি পাকিস্তানের রানের গতিতে। উইকেট গিয়ে দ্বিতীয় বলেই সানিকে মাথার ওপর দিয়ে ওড়ান হাফিজ।
৬ ওভারে পাকিস্তান তোলে ৫৫, এ বছর পাওয়ার প্লেতে তাদের সর্বোচ্চ রান। প্রথম ৮ ওভারের সবকটিতেই ছিল কমপক্ষে একটি বাউন্ডারি।
৩৫ বলে অর্ধশতক স্পর্শ করেন শেহজাদ। বিশ্বকাপের পাকিস্তান দলে শুরুতে ছিলেন না তিনি। ডাক পেয়েছেন এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বাজে পারফরম্যান্সের পর। নিজের প্রয়োজনীয়তাটাও বুঝিয়ে দিলেন যেন।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন এই ওপেনার। এবার অবশ্য পঞ্চাশ ছোঁয়ার পরপরই বিদায়। সাব্বিরের লেগ স্পিনে ধরা পড়েছেন মিড উইকেটে (৩৯ বলে ৫২)। দ্বিতীয় উইকেটে হাফিজের সঙ্গে জুটি ৬৮ বলে ৯৫ রানের।
হাফিজ বয়ে আনলেন প্রস্তুতি ম্যাচের ফর্ম। একদিন আগে এই মাঠেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭০ করেছিলেন। এবার ৪২ বলে ৬৪ করে আউট হলেন সীমানায় সৌম্য সরকারের ভারসাম্য রাখা দুর্দান্ত ক্যাচে।
শক্ত ভিত্তি পেয়ে ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে উপরে তুলে আনেন আফ্রিদি। শট খেলতে থাকেন নিজের মতো। বেশিরভাগ দিনই এসব শট খেলতে গিয়ে আউট হয়ে যান আফ্রিদি। কিন্তু এ দিন ছিল সেই বিরল দিনগুলির একটি, যেদিন সব কিছুই তার ব্যাটে হয়েছে ঠিকঠাক। তাল হারিয়ে বাংলাদেশের বোলাররাও বোলিং করেছেন এলোমেলো। ১৯ বলে ৪৯ করে আফ্রিদি আউট হন শেষ ওভারে। শেষ ৬ ওভারে পাকিস্তান তোলে ৮০ রান। দুইশ’র বেশি রান তোলা কঠিন ছিল অবশ্যই, তবে অসম্ভব নয়। কিন্তু দিনটি যে একদমই ছিল না বাংলাদেশের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ২০১/৫ (শারজিল ১৮, শেহজাদ ৫২, হাফিজ ৬৪, আফ্রিদি ৪৯, উমর আকমল ০, মালিক ১৫*, ইমাদ ০*; তাসকিন ২/৩২, সানি ২/৩৪, সাব্বির ১/১১)

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৪৬/৬ (তামিম ২৪, সৌম্য ০, সাব্বির ২৫, সাকিব ৫০*, মাহমুদুল্লাহ ৪, মুশফিকুর ১৮, মিঠুন ২, মাশরাফি ১৫*; আমির ২/২৭, আফ্রিদি ২/২৭, ইমাদ ১/১৩, ইরফান ১/৩০)

ফল: পাকিস্তান ৫৫ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: শহিদ আফ্রিদি (পাকিস্তান)

শেয়ার