‘বোমা কারিগর’র আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি॥ নাসিরকে খুন করতেই বুনো আসাদের নির্দেশে তারা বোমা তৈরি করছিলো

mamlamam
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বোমা তৈরিকালে বিস্ফোরণে দুই হাতের কব্জি উঠে যাওয়া যশোর শহরের বেজপাড়ার আলোচিত কোরবান আলী নেপথ্যের ঘটনা নিয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তারে প্রতিপক্ষের নাসির উদ্দিন খুন করতেই বুনো আসাদের নির্দেশে ওই বোমা তৈরি করা হচ্ছিলো। মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাটিস্ট্রেট মো. শাজাহান আলী এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন। কোরবার আলী বেজপাড়া বিহারী কলোনীর গোলাম আকবরের ছেলে।
এদিকে, ওই বোমা হামলায় জড়িত মামুন নামে একজনকে গতকাল শহরের মুজিব সড়ক (প্রেসক্লাব এলাকা) থেকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি বেজপাড়ার বুনোপাড়ার লুৎফর রহমানের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তোফায়েল আহম্মেদ।
আদালত সূত্র মতে, শহরের বেজপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে আসছিলেন বুনো আসাদ। বুনো আসাদ তার ভাই সাইদ ও তুহিন, ছেলে আনিস, সহযোগী মামুন ও আরমানসহ অন্তত দুই ডজন উঠতি বয়সের যুবকদের নিয়ে বোমাবাজি, দখলবাজি, অস্ত্র ও মাদক বেচাকেনা, ছিনতাই, ডাকাতি ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকা- চালিয়ে বেড়ায়। কিন্তু এলাকার নাসির সন্ত্রাসী বুনো আসাদের বিভিন্ন অপকর্মে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য নাসিরকে খুন করার পরিকল্পনা করে। এরই অংশ হিসেবে গত ২৫ জানুয়ারি দুপুরে বোমা তৈরির জন্য কোরবানকে ডেকে নেয় বুনো আসাদের ভাইদ ও ছেলে আনিস। কোরবানকে নিয়ে এলাকার সমির ডাক্তারের বাড়িতে যায়। এসময় বুনো আসাদ, মামুন, আরমান, সাইদ, তুহিনসহ সকলেই সেখানে বোমা তৈরির কাজ শুরু করে। ২০/২৫টি বোমা তৈরির পরে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরিত ওই বোমায় কোরবানের দুই হাতের কব্জি উড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ কোরবানকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর আহত কোরবানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়া হয়। ঢাকা থেকে সুস্থ্য হয়ে ফেরার পরে পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

শেয়ার