বলা হলেও শোনেনি রিজল ব্যাংক

rcb
সমাজের কথা ডেস্ক॥ জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ সুইফট মেসিজিং সিস্টেমে স্থানান্তরের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক ওই অর্থ ছাড় না করতে বললেও শোনেনি ফিলিপিন্সের রিজল ব্যাংক।
দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থ পাচারের ঘটনায় ফিলিপিন্সের সিনেট গঠিত কমিটির অনুসন্ধানে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে ইনকোয়ারার, যে সংবাদপত্রটির মাধ্যমে এই ঘটনাটি প্রকাশ পেয়েছিল।
এ বিষয়ে এক শুনানিতে সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান তিওফিস্তো গুইনগোনা প্রকাশ করেন, ৫ ফেব্রুয়ারি রিজল কর্মাশিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনে (আরসিবিসি) ওই অর্থ যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে ‘স্টপ পেমেন্ট’ এর একটি আদেশ যায় ৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টায়।
ওই দিনটি চীনা নতুন বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ফিলিপিন্সে ব্যাংক হলিডে।
শুনানিতে আরসিবিসি’র প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী লরেঞ্জো তানকে সিনেট ব্লু রিবন কমিটির এই চেয়ারম্যান বলেন, “৮ ফেব্রুয়ারিতেই আপনার ব্যাংক স্টপ পেমেন্ট আদেশ গ্রহণ করেছিল। ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ব্যাংকিং দিনে আপনার সেটি দেখা উচিত। কিন্তু ওই অর্থ তুলে নেওয়ায় আদেশটিকে সম্মান দেখানো হয়নি। সব অর্থই তুলে নেওয়া হয়েছিল।”
কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ওই আদেশের জবাব দেয় বলে শুনানির বরাত দিয়ে জানায় ইনকোয়ারার।
অর্থ না তোলার ব্যাপারে ওই বার্তায় দিনশেষে সাড়া দেওয়ায় শুনানিতে এ বিষয়ে আরসিবিসির প্রেসিডেন্টের কাছে ব্যাখ্যা চান সিনেটর গুইনগোনা।
“স্টপ পেমেন্টে সাড়া দিতে আপনাদের দিন পেরিয়ে যায়। আপনি কি ভালোভাবে বলবেন, অর্থ তোলা বন্ধের ওই নির্দেশনায় যেখানে দিনের শুরুতেই সাড়া দেওয়ার কথা, সেখানে তা কেন হয়নি।” সিনেটরের এই প্রশ্নের জবাবে আরসিবিসি প্রধান ব্যাংকের ‘গোপনীয়তার আইনের’ কথা বলে শুনানিতে ওই অর্থ ট্রানজেকশনের বিস্তারিত তুলে ধরতে অস্বীকৃতি জানান।
বাংলাদেশের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ৫ ফেব্রুয়ারি রিজল ব্যাংকের মাকাতি শহরের জুপিটার স্ট্রিট শাখায় ভুয়া নামে খোলা চারটি অ্যাকাউন্টে ঢোকার পর তা তুলে পাচার করা হয় বলে ইনকোয়ারার জানায়।
তান সিনেট কমিটিতে শুনানিতে ব্যাংকিংয়ের সাধারণ প্রক্রিয়ার দিকে নির্দেশ করে পেমেন্ট অর্ডার বন্ধের আদেশ বাস্তবায়ন জুপিটার স্ট্রিট শাখার ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব বলে ব্যাখ্যা দেন তিনি।
“সাধারণ নিয়মে, যখন কোনো অ্যাকাউন্টের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়, সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপকের উচিত সেই আদেশ মেনে চলা।”
তবে আরসিবিসির প্রধান কার্যালয় থেকে মাকাতি সিটির জুপিটার স্ট্রিট শাখার ব্যবস্থাপক মাইয়া সানতোস দেগিতোকে ওই ওই পেমেন্ট অর্ডার বন্ধের আদেশ পাঠানো হয়েছিল কি না, শুনানিতে এ বিষয়ে জানতে চাপ দেওয়া হলে ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট সরাসরি উত্তর না দিয়ে ব্যবস্থাপক দেগিতোর দায়িত্বের দিকে ইঙ্গিত করেন।
“সাধারণ নিয়ম হিসেবে প্রধান কার্যালয় থেকে এসব আদেশ শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে পাঠানো হয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্র থেকে পেমেন্ট অর্ডার বন্ধের আদেশের পরও কীভাবে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ মেকানিজমের মধ্য দিয়ে এই অর্থ বের হয়ে গেছে সেটি নিশ্চিত হতে শুনানিতে আরসিবিসির প্রেসিডেন্টকে এই প্রশ্ন করার আগ মুহূর্তে একই প্রশ্ন শাখা ব্যবস্থাপক দেগিতোকেও করেন সিনেটর গুইনগোনা।

শেয়ার