স্বামী হত্যায় স্ত্রী ও প্রেমিকের ফাঁসি

mritt
লাবুয়াল হক রিপন॥
যশোরের চৌগাছায় স্বামী আব্দুর রাজ্জাককে হত্যার দায়ে স্ত্রী শাবানা ও তার কথিত প্রেমিক আব্দুল আলিমকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদের আরো ৫০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেয়া হয়েছে। সোমবার যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (৪র্থ) আদালতের বিচারক শরীফ হোসেন হায়দার এ রায় দেন। হত্যাকান্ডের শিকার আব্দুর রাজ্জাক চৌগাছা উপজেলার আজমতপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নিহত আব্দুর রাজ্জাক স্ত্রী শাবানা খাতুন ও রাজ্জাকের ভগ্নিপতি (শাবানার কথিত প্রেমিক) আব্দুল আলিম। আলিম ও শাবানার পরকীয়া প্রেমের জের ধরে রাজ্জাককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। আব্দুল আলিম একই গ্রামের মুনসুর আলীর ছেলে।
আদালত সূত্র ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আজমতপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক পানের বরজের চাষাবাদ করতেন। প্রতিদিন রাত ৮টার দিকে আব্দুর রাজ্জাক পাহারা দিতে পানের বরজে যেতেন। আবার রাত ১০টার দিকে ফিরে আসতেন। তার বাড়ির পাশেই চাচাতো ভগ্নিপতি আব্দুল আলিমের বাড়ি। রাজ্জাক বাড়ি না থাকার সুযোগে তার স্ত্রীর সাথে আব্দুল আলিমের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এ নিয়ে উভয় পরিবারে অশান্তি দেখা দেয় এবং একাধিকবার শালিস মীমাংসাও হয়। এতে রাজ্জাকের উপর শাবানা ও আলিম আরো ক্ষিপ্ত হয়। শালিস মীমাংসা হওয়ায় তারা অপমানিতবোধ করে আব্দুর রাজ্জাককে খুন করার পরিকল্পনা করে। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ রাত ৮টার দিকে বরজ পাহারায় যান আব্দুর রাজ্জাক। এর কিছুক্ষণ পরে শাবানা ও আব্দুল আলিম পানের বরজের পাশে রুহুল আমিনের মেহগনি বাগানে অবস্থান নেন। আব্দুর রাজ্জাক রাত ১০টার দিকে বাড়ির দিকে রওনা করেন। এসময় মেহগনি বাগানের কাছে পৌঁছালে আব্দুল আলিম রাজ্জাককে ডাক দেয়। এসময় শাবানা রাজ্জাকের সামনে আসে। এতে রাজ্জাক ক্ষিপ্ত হয় শাবানার উপর। এরই মধ্যে আলিমের কাছে থাকা একটি গামছা দিয়ে রাজ্জাকের গলায় পেঁচিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর শাবানা রাজ্জাকের কোমরে থাকা গামছা খুলে রাজ্জাকের মুখের মধ্যে দেয়। এসময় শাবানার হাতে কামড় দেন রাজ্জাক। এক পর্যায়ে শ্বাসরোধে আব্দুর রাজ্জাক মারা যান। পরে তারা দু’জনে যে যার মত বাড়িতে চলে যায়। অধিক রাত পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় স্ত্রী শাবানাসহ পরিবারের অন্যরা চারিদিকে রাজ্জাককে খুঁজতে বের হয়। রাত পৌনে তিনটার দিকে ওই মেহগনি বাগানে গিয়ে সাবানা তার স্বামী রাজ্জাকের লাশ খুঁজে বের করেন।
এদিকে, পরকীয়ার ঘটনায় শাবানা ও আব্দুল আলিমকে সন্দেহ করে এঘটনায় রাজ্জাকের ভাই মিন্টু মিয়া বাদী হয়ে একই বছরের ১১মার্চ চৌগাছা থানায় মামলা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাশেদুল আলম শাবানাকে আটকের পর আদালতে প্রেরণ করেন। এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন।
আসামির দেয়া জবানবন্দি এবং স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ওই দু’জনকে অভিযুক্ত করে যশোর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ২০১৫ সালের ৯ জুন তৎকালীন যশোরের জেলা ও দায়রা জজ মিজানুর রহমান ওই দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ১১জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গতকাল এ মামলায় আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী শাবানা খাতুন এবং তার প্রেমিক আব্দুল আলিমকে মৃত্যুদন্ডের রায় দেন আদালত। একই সাথে আরো ৫০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেয়া হয়।
এমামলার রায়ে সরকার পক্ষের আইনজীবী আবু সেলিম রানা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ দন্ড দিয়েছেন। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন।

শেয়ার