যশোরের ১৫ ইউপি নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন, নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীরা

litu
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নেমে পড়েছেন যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদের প্রার্থীরা। গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ছাড়াও চেয়ারম্যান পদে সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া ১৫ ইউনিয়নের সংরক্ষিত সদস্য ও সাধারণ সদস্যদের মাঝেও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর পরপরই প্রার্থীরা গ্রামে গ্রামে মাইকিং করার পাশাপাশি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েন। সমান তালে চলে পোস্টারিংয়ের কাজ।
যশোর সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ওয়াহিদা আফরোজ জানান, উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত ও সাধারণ সদস্য পদে পাঁচ শতাধিক প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরপরই নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে তারা প্রচারণা চালাতে থাকেন।
আগামী ৩১ ডিসেম্বর যশোর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বিএনপির তিন জন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে আরবপুর, নরেন্দ্রপুর ও দেয়াড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বাকি ১২ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের দলীয় প্রতীক যথাক্রমে নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল ও হাতপাখা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চাঁচড়ায় আব্দুল আজিজ বিশ্বাস, বসুন্দিয়ায় আবু বক্কর খান, লেবুতলায় রাজু আহমেদ ও কচুয়ায় জাকির হোসেনকে আনারস প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কচুয়ার আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মালেক খান বরাদ্দ পেয়েছেন চশমা প্রতীক। আর চেয়ারম্যান পদে ইছালীর স্বতন্ত্র প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম টেবিল ফ্যান ও ফতেপুরের আলমগীর হোসেনকে দেওয়া হয়েছে মোটরসাইকেল প্রতীক। এছাড়া ১৫ ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে পাঁচ শতাধিক প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একধরণের উৎসবমুখর পরিবেশে বরাদ্দকৃত প্রতীক নিতে আসেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। প্রতীক পেয়েই তারা নিজ নিজ এলাকায় মোবাইল ফোনে কর্মী-সমর্থকদের জানিয়ে দেন। পরে প্রার্থীরা নিজ এলাকায় গিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সদস্য ও সাধারণ সদস্যদের প্রতীকে ভোট চেয়ে মাইকিং শুরু হয়। সমান তালে চলে গ্রাম গ্রামান্তরের চায়ের দোকানগুলোয় জমপেশ ভোট আড্ডা।
জানা যায়, চাঁচড়া ও ফতেপুর ইউনিয়নে উপজেলা নির্বাচন অফিসার ওহিদা আফরোজ, হৈবতপুর, চুড়ামনকাঠি ও কাশিমপুর ইউনিয়নে সদর উপজেলা প্রকৌশলী একেএম শহিদুল ইসলাম, লেবুতলা ও ইছালী ইউনিয়নে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জামাল হোসেন, নওয়াপাড়া ও উপশহর ইউনিয়নে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বৈরাগী, আরবপুর ও দেয়াড়া ইউনিয়নে উপজেলা কৃষি অফিসার এস এম খালিদ সাইফুল্লা, কচুয়া ও রামনগর ইউনিয়নে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার শাহানারা বেগম এবং নরেন্দ্রপুর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়নে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এটিএম মাসুদ হোসেন রিটার্নিং অফিসার হিসেবে এসব প্রতীক বরাদ্দ দেন।

শেয়ার